Logo
Logo
×
   

Advertisement

ভারত

ভারতরত্নকে নোটিশ ঘিরে তোলপাড়

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম

দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পান অমর্ত্য সেন।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে দীর্ঘ বিতর্কের পর অবশেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে তালিকায় তাকে প্রবাসী ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি ঘিরে কয়েক মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রকাশ্যে এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনের সমালোচনা করেন।

গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়।  ভোটার তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে নথিপত্র যাচাই ও শুনানির কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ ওঠে, সামান্য ভুল বা তথ্যের অসঙ্গতিতেও বহু সাধারণ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  সেই তালিকায় নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের নাম থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে বসবাস করলেও অমর্ত্য সেন ভারতের নাগরিক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি প্রয়োজনীয় এনুমারেশন ফর্ম জমা দেন বলে জানা যায়। তবুও কেন তাকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ব্যক্তিত্বদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।  তিনি বলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে শুনানির নোটিশ দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।

এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলতে থাকে।

এদিকে বোস্টন থেকে এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে দেন, ভোটারদের প্রতি অন্যায় হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ভালো বার্তা নয়।

বিতর্ক বাড়তে থাকায় নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেয়। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী নথিপত্র যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পরে শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ি প্রতীচীতে গিয়ে শুনানির কাজ সম্পন্ন করেন কমিশনের কর্মকর্তারা।  শুনানির সময় কমিশনের প্রতিনিধিদের হাতে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কপি, অমর্ত্য সেনের পাসপোর্ট, আধার কার্ড এবং তার মা প্রয়াত অমিতা সেনের মৃত্যু সনদসহ একাধিক নথি তুলে দেওয়া হয়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম থাকবে কি না তা নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে প্রবাসে অবস্থান করায় তালিকায় তার অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। তবে শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়েছে। যাদের নথিপত্র সঠিকভাবে পাওয়া গেছে, তাদের নাম তালিকায় বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির পরিচিতি বা অবস্থান নয়, কেবল নথিপত্রের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে অমর্ত্য সেনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি। রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। নোবেলজয়ীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আপাতত জল্পনার অবসান হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম