নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকে ঘিরে শুভেন্দুর মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মতপ্রকাশ করতে যেয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তার বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে বাংলার মানুষের জন্য অমর্ত্য সেনের কোনো কন্ট্রিবিউশন নেই। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে নোটিশ পান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বয়স ৯২ হওয়ায় এবং বিদেশে থাকায় তিনি সশরীরে শুনানিতে হাজির থাকতে পারেননি। বোলপুরে তার পরিবারের এক সদস্য তার হয়ে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টি ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, খুব তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ভোটারদের নিজেদের পরিচয় প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এতে বহু সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষেও ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি জানান।
অমর্ত্য সেন আরও বলেন, সতর্কভাবে এবং সময় নিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হলে সেটি একটি ভালো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই যত্ন দেখা যাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের পরেই রাজ্য বিজেপির তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে বলেন, বাংলার মানুষের জন্য অমর্ত্য সেনের কোনো কন্ট্রিবিউশন নেই।
তিনি দাবি করেন, অমর্ত্য সেন কোনো শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেননি এবং কোনো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণও নেই। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অমর্ত্য সেনের কোনো ভূমিকা নেই।
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে এভাবে তাচ্ছিল্য করার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দলের পক্ষ থেকে একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে নাম উল্লেখ না করেই বলা হয়, যার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে অপব্যবহার এবং অপমানের অভিযোগ জড়িয়ে রয়েছে তার পক্ষে বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত অর্থনীতিবিদকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা স্বাভাবিকভাবেই হাস্যকর।
তৃণমূল কংগ্রেস আরও জানায়, দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ ও কল্যাণনীতি এবং মানব উন্নয়ন নিয়ে অমর্ত্য সেনের গবেষণা এবং কাজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এই ধরনের কাজ সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখে বলেও শাসক দলের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।
এসআইআর প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন নিজেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ ভারতে জন্ম নেওয়া বহু মানুষের মতো তারও জন্ম সনদ নেই। নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে তাকে একাধিক নথির উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে হয়তো সেই প্রক্রিয়া পার করতে পেরেছি। কিন্তু যাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা বা পরিচিতজন নেই তাদের কথা ভেবেই আমি উদ্বিগ্ন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে, অমর্ত্য সেনকে এসআইআর নোটিশ পাঠানো নিয়ে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের হয়রানি বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
সব মিলিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক প্রশ্নের পাশাপাশি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে নিয়ে বিরোধী দলনেতার কোনো কন্ট্রিবিউশন নেই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই বিতর্ক আরও কতদূর গড়ায় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

