Logo
Logo
×

Advertisement

চিত্র বিচিত্র

রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা, মহাকাশে বসছে আয়না

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা, মহাকাশে বসছে আয়না

প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত আয়নাগুলো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সূর্যের আলো ফেলতে পারবে। ফাইল ছবি

Advertisement

রাতের অন্ধকারেও মিলবে সূর্যের আলো। শুধু তাই নয়, বিদ্যুতের মতো সূর্যের আলোও কেনাবেচা করা যাবে। এমনই এক অভিনব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। মহাকাশে বিশাল আকৃতির আয়না স্থাপন করে সূর্যের আলো পৃথিবীতে প্রতিফলিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিফ্লেক্ট অরবিটাল।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাতেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত এলাকায় আলো সরবরাহ এবং উদ্ধার অভিযানেও ব্যবহার করা যাবে এই প্রযুক্তি।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভারতের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের সঙ্গে দুটি রকেট উৎক্ষেপণের চুক্তি করেছে রিফ্লেক্ট অরবিটাল। তবে উচ্চাভিলাষী এ পরিকল্পনা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে রাতের আকাশের স্বাভাবিক অন্ধকার ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

কী পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির?

রিফ্লেক্ট অরবিটাল পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (এলইও) ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮ মিটার প্রস্থের বিশাল আয়না স্থাপন করতে চায়। এসব আয়না নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট এলাকায় আলো প্রতিফলিত করা হবে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যবহৃত আয়নাগুলো প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সূর্যের আলো ফেলতে পারবে। গ্রাহকেরা অ্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় আলো প্রয়োজন, তা নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর আয়নার অবস্থান পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট এলাকায় আলো সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটির প্রথম পরীক্ষামূলক অভিযান ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট

প্রতিষ্ঠানটি ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। তাদের দাবি, প্রতিফলিত আলো অনেকটা চাঁদের আলোর মতো হবে। স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়লে আলোর উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বও বাড়বে। এ প্রকল্পে ‘ইয়ারেন্ডিল-১’ নামের পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হবে।

বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ

২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের অণু ও ক্ষুদ্র কণার কারণে প্রতিফলিত আলোর একটি অংশ আশপাশের আকাশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি মাটিতে পড়া আলোও পুনরায় প্রতিফলিত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে যেতে পারে।

গবেষণার মডেল অনুযায়ী, আয়না ১৪ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হলেও পৃথিবীর পৃষ্ঠে তৈরি আলোর আভা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর চেয়েও উজ্জ্বল হতে পারে। ফলে যারা আলো চাননি, তারাও এর প্রভাবে পড়তে পারেন। 

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কয়েকজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী সংগঠন এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশনের (এফসিসি) কাছে অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নির্বাচনে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বিশ্বকে নতুন সংকটে ফেলতে পারেন

নির্বাচনে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বিশ্বকে নতুন সংকটে ফেলতে পারেন

ভারত ও তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ভারত ও তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

‘৮ কোটি মিশরীয় থাকতে ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলে কেন’—চাচার প্রশ্নে যা বলেছিলেন আল-সাইয়েদ

‘৮ কোটি মিশরীয় থাকতে ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলে কেন’—চাচার প্রশ্নে যা বলেছিলেন আল-সাইয়েদ

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

২০২৭ সালে ভারতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে, ৩ রোগে আক্রান্তদের জন্য দুঃসংবাদ

২০২৭ সালে ভারতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে, ৩ রোগে আক্রান্তদের জন্য দুঃসংবাদ

আমাকে সরাতে গেলে ডেমোক্র্যাটরাই ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প

আমাকে সরাতে গেলে ডেমোক্র্যাটরাই ধ্বংস হয়ে যাবে: ট্রাম্প

আরও পড়ুন

রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা, মহাকাশে বসছে আয়না

রাতে সূর্যের আলো বিক্রির পরিকল্পনা, মহাকাশে বসছে আয়না

‘কামানের গোলা’ নাকি ‘মদের বোতল’, যে ছবি নিয়ে বিপাকে চীন

‘কামানের গোলা’ নাকি ‘মদের বোতল’, যে ছবি নিয়ে বিপাকে চীন

চার মহাদেশ পাড়ি দিয়ে ২৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন তিনি

চার মহাদেশ পাড়ি দিয়ে ২৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন তিনি

৪১০ কোটি বছর আগের উল্কাপিণ্ড মিলল সাহারা মরুভূমিতে

৪১০ কোটি বছর আগের উল্কাপিণ্ড মিলল সাহারা মরুভূমিতে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম