‘কামানের গোলা’ নাকি ‘মদের বোতল’, যে ছবি নিয়ে বিপাকে চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
চীনের দাবি এটা মদের বোতল। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাপুয়া নিউগিনিতে ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহভাজন কামানের গোলা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বস্তুটি চীনের তৈরি সামরিক গোলা বলে দাবি করা হলেও চীন বলছে, এটি আসলে কামানের গোলার আদলে তৈরি একটি মদের বোতল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাস জানায়, বস্তুটি কোনো বিপদের কারণ নয়। তবে দূতাবাসের এমন দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
গত শুক্রবার পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরসবির একটি নির্মাণস্থলে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী কনটেইনারের ভেতর থেকে ৩২ কেজি ওজনের বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে বস্তুটি সচল বিস্ফোরক কি না, তা খতিয়ে দেখছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। সে সময় দেশটির পুলিশ কমিশনার ডেভিড ম্যানিং ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক আবিষ্কার’ বলে বর্ণনা করেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (এবিসি) এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বলা হয়, বস্তুটি চীনের তৈরি টাইপ-৫৯ মডেলের ১৩০ মিলিমিটার আর্টিলারি শেল। এতে রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
এর আগে বস্তুটি নিছক নকল বা নিষ্ক্রিয় গোলা বলে ধারণা নাকচ করেছিল পাপুয়া নিউগিনির পুলিশ। দেশটির সংবাদমাধ্যম পোস্ট কুরিয়ার এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে চীনা দূতাবাসের দাবি, চীন থেকে এ ধরনের অবৈধ সামরিক অস্ত্র পাপুয়া নিউগিনিতে পাচার করা প্রায় অসম্ভব। দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অন্যতম কঠোর আইন ও বিধিবিধান রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে চীনের এই ব্যাখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। একজন প্রশ্ন তুলেছেন, ৩২ কেজি ওজনের মদের বোতল কেমন হতে পারে? আরেকজনের মন্তব্য, বস্তুটিতে মদের বোতল হিসেবে শনাক্ত করার মতো কোনো লেবেলও ছিল না।

