পাকিস্তানের তিন বাহিনীর প্রধান হলেন আসিম মুনির
ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে সেনাপ্রধান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৩ পিএম
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানের সংসদে গত বুধবার বিতর্কিত ২৭তম সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের মেয়াদ নতুন করে পাঁচ বছর বাড়ল। চাইলে মেয়াদ শেষের পরও আবার নতুন করে আরও পাঁচ বছরের মেয়াদ বাড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে তাকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএস) পদেও উন্নীত করা হয়েছে।
অর্থাৎ শুধু সেনাবাহিনী নয়—কার্যত দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনীরও প্রধান তিনি। দেওয়া হয়েছে আজীবন দায়মুক্তি। সবমিলিয়ে রাতারাতি ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেছেন দেশটির সেনাপ্রধান। সংকুচিত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষমতা। আরব নিউজ।
সেনাপ্রধান মুনিরের তিন বছরের মূল মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৭ নভেম্বর। তবে গত বছর সেনাবাহিনীর শীর্ষপদের মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার।
২৭ নভেম্বর তার তিন বছরের মেয়াদ শেষ হতেই বর্ধিত নতুন ওই পাঁচ বছর মেয়াদ শুরু হবে। নতুন সংশোধনী বিচার বিভাগ ও সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছে। মুনির এখন সেনাবাহিনী, নেৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার হচ্ছেন।
সংশোধনী অনুযায়ী, ফিল্ড মার্শালের মেয়াদ শেষ হলেও পদমর্যাদা বহাল থাকবে এবং আজীবন ফৌজদারি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি আইনটিতে সই করেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জাতীয় পরিষদে পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট (সংশোধনী) বিল ২০২৫, পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (সংশোধনী) বিল ২০২৫ ও পাকিস্তান নেভি (সংশোধনী) বিল ২০২৫ উপস্থাপন করেন এবং এগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাশ হয়।
আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার সংসদে পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট সংশোধন পেশ করেন। এতে মুনির আরও পাঁচ বছর সেনাপ্রধান ও সিডিএস হিসাবে থাকবেন। তার নতুন মেয়াদ শেষ হবে নভেম্বর ২০৩০ সালে। ফলে ২০২২ সালে নিয়োগ পাওয়া মুনির মোট আট বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে মেয়াদ শেষ হলে তিনি আরও পাঁচ বছরের মেয়াদ বৃদ্ধি পেতে পারেন। এর আগেও বেসামরিক সরকারগুলো সেনাপ্রধানদের মেয়াদ বাড়িয়েছে। সংশোধনীর আরেকটি বড় দিক হলো চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি) পদটি বাতিল। বর্তমান সিজেসিএসসি সাহির শামশাদ মির্জা অবসর নিলেই পোস্টটি তুলে দেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী তারার জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সিডিএস নিয়োগ দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই পরিবর্তনকে ‘জাতীয় ঐক্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। নতুন এ সংস্কারের ফলে সংবিধানসংক্রান্ত মামলাগুলো সুপ্রিমকোর্টের হাত থেকে ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতের হাতে চলে যাবে।
এ ঘটনায় পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের দুই বিচারপতি মনসুর আলী শাহ ও আথার মিনাল্লাহ পদত্যাগ করেছেন। এরপর শুক্রবার প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথগ্রহণ করেন আমিনউদ্দিন খান। এ বিষয়ে সংবিধানবিদ আসাদ রহিম খান বলেন, বিচারব্যবস্থার ওপর এমন আঘাত শতবর্ষে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আইনজীবী মির্জা মোইজ বেগের ভাষায়, ‘এই সংশোধনী স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মৃতু্যঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে অভু্যত্থানপ্রবণ দেশ। এখন যদিও নির্বাচিত সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আছে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাবাহিনী ক্ষমতার মূল জায়গাগুলোয় আরও শক্ত অবস্থানে এসেছে। রাজনৈতিক বিশে্লষক জাহিদ হুসেন বলেন, নতুন সংশোধনী সেনাপ্রধানকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। তার ভাষায়, এই পদ এখন পুরোপুরি অজবাবদিহির পর্যায়ে। পদাধিকারী ব্যক্তি কার্যত যে কোনো কিছু করেও দায়মুক্ত থাকতে পারেন।
দুই ফ্রন্টেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত পাকিস্তান: পূর্ব-পশ্চিম সীমান্ত দুই ফ্রন্টেই পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ভারতের নয়াদিলি্ল ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্প্রতি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘিরে উত্তেজনার মাঝে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই দাবি করেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
খাজা আসিফ বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, আমরা পূর্ব (ভারত) ও পশ্চিম (আফগানিস্তান) উভয় সীমানে্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। প্রথম রাউন্ডে আল্লাহ আমাদের সাহায্য করেছেন এবং দ্বিতীয় রাউন্ডেও তিনি আমাদের সাহায্য করবেন।’
