Logo
Logo
×

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্য

কে এই আইজেনকোট, তার ফিলিস্তিন নীতি কী?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

কে এই আইজেনকোট, তার ফিলিস্তিন নীতি কী?

ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনীতিতে আসা এই নেতা এখন দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

৬৬ বছর বয়সি আইজেনকোট ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব জেনারেল স্টাফ। তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির সেনাপ্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘ইয়াশার’ দলের নেতা। গত ৭ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। এ জন্য তিনি প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পেয়েছেন; প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। 

রণাঙ্গন থেকে রাজনীতিতে

গাদি আইজেনকটের জন্ম ১৯৬০ সালে। তার বাবা-মা মরক্কো থেকে ইসরাইলে আসেন। দেশটির উত্তরাঞ্চলের তিবেরিয়াস ও দক্ষিণের ইলাত শহরে বেড়ে ওঠা আইজেনকট ১৯৭৮ সালে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোলানি পদাতিক ব্রিগেডে যোগ দেন।

সামরিক জীবনে তিনি ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গোলানি ব্রিগেডে কমান্ডার হিসেবে কাজ করার পর তিনি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব, অপারেশন বিভাগ এবং উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের নেতৃত্ব দেন। পরে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হন। ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি আইডিএফের ২১তম চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে চার দশকের সামরিক জীবনের ইতি টানেন তিনি। 


নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিরোধ

সেনাপ্রধান থাকাকালে আইজেনকোট সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য আলোচনায় আসেন। ২০১৬ সালে হেবরনে এক আহত ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি সেনা এলোর আজারিয়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও আইজেনকোট সামরিক তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।

২০২২ সালে তিনি বেনি গান্টজের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারে যোগ দেন। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালের জুনে গান্টজের সঙ্গে সরকার ছাড়েন তিনি।

পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরও সরব হন আইজেনকোট। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু যুদ্ধের পরবর্তী পরিকল্পনা স্পষ্ট করছেন না এবং রাজনৈতিক স্বার্থে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল ইয়াশার প্রতিষ্ঠা করেন। 

গাজা যুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষতি

গাজা যুদ্ধ আইজেনকোটের পরিবারেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে তার ২৫ বছর বয়সি ছেলে গাল মেইর আইজেনকোট নিহত হন। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।

ছেলের মৃত্যুর পরও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বরং যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, সরকারের জবাবদিহি এবং ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার তদন্তের দাবিতে আরও সক্রিয় হন। 


আইজেনকোটের ফিলিস্তিন নীতি

আইজেনকোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম বিষয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন। তিনি নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ওই ঘটনার দায় এড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন।

দেশটির সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সবার জন্য সমান নিয়মের পক্ষে তিনি। বিশেষ করে অতি-ধর্মীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ছাড়ের বিরোধিতা করছেন। এ বিষয়টি ইসরাইলের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের অংশ।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইজেনকোটকে নেতানিয়াহুর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানের নেতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক সামরিক নীতির সমর্থক। গাজায় হামাসের শাসনের অবসান চান এবং ৭ অক্টোবরের হামলার পর ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের আনুষ্ঠানিক সংযুক্তিকরণ ও সেখানে নতুন বসতি স্থাপনের কিছু উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। 

আইজেনকোট নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও ফিলিস্তিনিদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। তিনি বিতর্কিত ‘দাহিয়ে ডকট্রিন’-এর স্থপতি, যে নীতি বেসামরিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সমর্থন করে। তার সেনাপ্রধান থাকাকালীন সময়েও গাজা ও পশ্চিম তীরে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে নেতানিয়াহুর বিদায় ঘটলেও ইসরাইলের কঠোর দমননীতি একই রকম থাকতে পারে।


নেতানিয়াহুকে সরানোর পথে চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। তবে আইজেনকোটের বিরোধী জোটও ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি। একক দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেলেও তার জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩। অন্যদিকে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটের আসন ৪৮। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

কিন্তু আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া নিয়ে আইজেনকোটের সম্ভাব্য জোটের মধ্যেই মতবিরোধ রয়েছে। আবার অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা কিংবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পথও জটিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেও তার সামনে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ অপেক্ষা করছে।

আইজেনকোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো নেতাকে সেই সুযোগ দেওয়া হতে পারে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কেউ সরকার গঠন করতে না পারলে ইসরাইলে আবারও নির্বাচন হতে পারে। 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নেতানিয়াহুকে হটানোর পথে আইজেনকোট, পেরোতে হবে কঠিন ৭ বাধা

নেতানিয়াহুকে হটানোর পথে আইজেনকোট, পেরোতে হবে কঠিন ৭ বাধা

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘মিশন’ এখনো শেষ হয়নি: কাটজ

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘মিশন’ এখনো শেষ হয়নি: কাটজ

আইজেনকোট এই ৬ বাধা পেরুলেই ‘নেতানিয়াহু আউট’

আইজেনকোট এই ৬ বাধা পেরুলেই ‘নেতানিয়াহু আউট’

আইজেনকোট কি ইসরাইলের নীতিতে পরিবর্তন আনবেন?

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ আইজেনকোট কি ইসরাইলের নীতিতে পরিবর্তন আনবেন?

নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টা নেতানিয়াহুর দলের

নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টা নেতানিয়াহুর দলের

আইজেনকটের সামনে ৫ পথ, ভুলের অপেক্ষায় নেতানিয়াহু

আইজেনকটের সামনে ৫ পথ, ভুলের অপেক্ষায় নেতানিয়াহু

আরও পড়ুন

কে এই আইজেনকোট, তার ফিলিস্তিন নীতি কী?

কে এই আইজেনকোট, তার ফিলিস্তিন নীতি কী?

নেতানিয়াহুকে হটানোর পথে আইজেনকোট, পেরোতে হবে কঠিন ৭ বাধা

নেতানিয়াহুকে হটানোর পথে আইজেনকোট, পেরোতে হবে কঠিন ৭ বাধা

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘মিশন’ এখনো শেষ হয়নি: কাটজ

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘মিশন’ এখনো শেষ হয়নি: কাটজ

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে কি ফের হামলা চালাবেন ট্রাম্প?

ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে কি ফের হামলা চালাবেন ট্রাম্প?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম