Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

বিশ্বের কোন দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঘটে?

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:১৪ পিএম

বিশ্বের কোন দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ঘটে?

ভূমিকম্প পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যে অন্যতম।

Advertisement

ভূমিকম্প পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যে অন্যতম। জনবহুল এলাকায় এটি মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, এমনকি সুনামি ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের কারণও হতে পারে। টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া, আগ্নেয়গিরিতে চৌম্বকীয় পদার্থের সঞ্চালন, তাপমাত্রা বা পানির চাপের পরিবর্তন এবং তীব্র বাতাসসহ বেশ কিছু কারণ ভূমিকম্প সৃষ্টি করে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এর সময় নিজেকে অনেকাংশে নিরাপদ রাখা যায়।

ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস মানেই প্রতিদিন ভূমিকম্প হবে—এমন নয়। তবুও বাড়িতে জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা, পরিবারের সবাইকে দুর্যোগ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো এবং পরিস্থিতি গুরুতর হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া জরুরি। আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক। বিশেষত, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোতে বাস করেন তাদের জন্য প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন জেনে নেওয়া যাক, বিশ্বের কোন কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ।

জাপান

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চল—‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থান করায় দেশটি সবসময়ই টেকটোনিক কার্যকলাপ ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জাপান উন্নত প্রযুক্তি ও সিসমিক মনিটরিং ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা ক্ষুদ্রতম ভূমিকম্পও শনাক্ত করতে সক্ষম। পুরো দেশজুড়ে কৌশলগতভাবে স্থাপন করা হয়েছে এক হাজারের বেশি সিসমোমিটার। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ভূমিকম্পই ছোট, যা সাধারণ মানুষ টেরও পায় না। তবে মাঝে মাঝে বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়। জাপানে দেশব্যাপী একটি সতর্কতা ব্যবস্থা চালু আছে, যা বাসিন্দাদের আগাম তথ্য দিয়ে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রায় প্রতি বছরই ৬ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিতে আঘাত হানে। ২০১৮ সালে ৬ এর ওপরে নয়টি ভূমিকম্পে হাজারও মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থানের কারণে দেশটি ভূমিকম্পের পাশাপাশি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, খরা, বন্যা ও সুনামির ঝুঁকিতেও রয়েছে।

চীন

চীনে ভূমিকম্পের ইতিহাস দীর্ঘ এবং ভয়াবহ। অতীতে বহু ভূমিকম্প হাজার হাজার মানুষের প্রাণ নিয়েছে। ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে আঘাত হানা ৭.৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায় বা নিখোঁজ হন। দেশটি একাধিক সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থান করায় ক্রমাগত ভূত্বকে চাপ সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ায়। চীনের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলগুলো ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করে, যা পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোকেও ভূমিকম্পে প্রভাবিত করতে পারে।

ফিলিপাইন

প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ারের ধার ঘেঁষে অবস্থান করায় ফিলিপাইনও বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। এর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ভূমিকম্পের সময় মারাত্মক ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি নিয়মিত টাইফুন ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ও দেশটিকে বিপদে ফেলে। এসব কারণে বাসিন্দারা নিজেদের সুরক্ষায় মজবুত ঘরবাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।

ইরান

ইরান বহু বছর ধরেই বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সাক্ষী। দেশটির বিভিন্ন প্লেট সীমানা ও ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থান করায় এখানে ভূমিকম্পের হার খুবই বেশি। ১৯৯০ সালে গিলান প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। ভয়াবহ এই ট্র্যাজেডিগুলোর পরও ইরানিরা দেশে বসবাস চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় সম্পর্কে তারা ইতিমধ্যে জ্ঞান ও সচেতনতা অর্জন করেছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অবরোধের বিষয়ে যা বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অবরোধের বিষয়ে যা বলল ইরান

দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থী নেবে কানাডা, ৩ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা

দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থী নেবে কানাডা, ৩ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা

রিয়াদে আরামকোর ভবনে ক্ষেপাণাস্ত্র হামলা হুথিদের, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রিয়াদে আরামকোর ভবনে ক্ষেপাণাস্ত্র হামলা হুথিদের, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টা নেতানিয়াহুর দলের

নির্বাচনের ফল বানচালের চেষ্টা নেতানিয়াহুর দলের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম