Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ভোটের আগে বিতর্কের আগুন

বাংলাভাষী মুসলমানদের নিয়ে কটাক্ষ করে যা বললেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

বাংলাভাষী মুসলমানদের নিয়ে কটাক্ষ করে যা বললেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা বিতর্কিত শব্দ ‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আসামে যেন ‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ এমনভাবে উত্যক্ত করা হয় যাতে তারা রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা ‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের কোনো লুকোচুরি নেই। 

তার এই বক্তব্য আসামের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতে মিঞাঁ শব্দটি আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একটি কটু শব্দ হিসেবে পরিচিত। এই শব্দের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি বলে ইঙ্গিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আসামে বিতর্ক চলে আসছে। নাগরিকত্ব ইস্যু এনআরসি এবং বিদেশি চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

আসামে কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগেই রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে এটি ভোটের আগে একটি রুটিন প্রক্রিয়া। তবে বিরোধীদের অভিযোগ এই সংশোধনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন যে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিজেপি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সন্দেহজনক বিদেশিদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে গুচ্ছ গুচ্ছ সাত নম্বর ফরম জমা দেন। তার দাবি ইতিমধ্যেই বিজেপি কর্মীরা প্রায় পাঁচ লাখ ফরম জমা দিয়েছেন।

ভোটার তালিকায় কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে আপত্তি জানাতে সাত নম্বর ফরম জমা দেওয়া যায়। আইন অনুযায়ী যে কেউ এই ফরম জমা দিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফরম জমা দিয়ে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে।

এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে আসামের কংগ্রেস নেতৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে গৌহাটি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, গুচ্ছ গুচ্ছ সাত নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার নির্দেশ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে এবং এর ফলে অনেক প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক হয়রানির শিকার হতে পারেন। 

আসামে বসবাসকারী বাংলাভাষী মুসলমানদের একটি বড় অংশ নিজেদের ভারতের নাগরিক বলে দাবি করে আসছেন। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের দিক থেকেও এই বক্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ সরাসরি বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়ার কথা বলার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশকে টেনে আনা হয়েছে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যে। কূটনৈতিক মহলেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে আসামে ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য বিজেপির মেরুকরণ রাজনীতিরই অংশ। নাগরিকত্ব এবং পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে এনে ভোটের ময়দানে ফায়দা তোলার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

আসামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যায় এবং এই বিতর্কের আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতি কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী ও প্রতিবেশী বাংলাদেশ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম