Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন নিয়ে যা বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৮ এএম

হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন নিয়ে যা বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

ঢাকার সঙ্গীত সরকারি মিউজিক কলেজের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু মৌলিক প্রশ্নে গণভোটও হচ্ছে। বাংলাদেশের এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ প্রকাশ করছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দিতে যাচ্ছেন। ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রে ফেরার এটি একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে

এই নির্বাচনে সরাসরি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। এই জোটে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি), যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তরুণ কর্মীদের দ্বারা গঠিত।

দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এসব বিষয়ই নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল এই দেশে এসব ইস্যু এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫’ নামে একটি প্রস্তাবিত সনদ নিয়েও গণভোট হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে তৈরি এই সনদ ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্ধারণ করবে।


আল জাজিরার পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘লাইভ নিউজ’ প্রকাশ করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।  এতে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। 

বিবিসির লাইভে আরও বলা হয়েছে, এটি শুধু ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনই নয়, বরং কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবার বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া—কেউ-ই নির্বাচনী মাঠে নেই।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের প্রধান ইসলামপন্থি দল প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ভোটাররা কেবল নতুন সরকারই নির্বাচন করবেন না; তারা একটি সাংবিধানিক গণভোটেও অংশ নেবেন, যেখানে ‘জুলাই সনদ’ নামে ব্যাপক সংস্কারপ্যাকেজ বাস্তবায়িত হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে।

নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের জেন-জি ভোটারদের প্রত্যাশা- চাকরি, সুশাসন ও স্বাধীনতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চাকরি, সুশাসন এবং ভয়ভীতি ছাড়া কথা বলার স্বাধীনতা—এ তিনটি বিষয়ই বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ভোটকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশটিতে কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাকসহ বড় শিল্প খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে বাংলাদেশে বেশি ভোটারের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। বুধবারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বুধবার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তারা ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণ আশা করছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আবুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে ২০ ও ৩০-এর কোঠায় থাকা অনেক তরুণ শেখ হাসিনার কঠোর শাসনের সময় কার্যত নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

‘বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশের তরুণ ভোটারদের নানা দাবি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, তরুণ ভোটারদের অনেকেই ২০২৪ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা বয়ে আনবে।


‘বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। এতে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্য যে কোনো নির্বাচনের মতো নয়। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট করে একটি ইসলামপন্থি দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থি শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি দেখাতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার নতুন রূপ তৈরি করছে।

নির্বাচন নিয়ে ‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ৫০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, অধিকাংশ কেন্দ্রেই সিসিটিভি স্থাপন’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব কেন্দ্রের ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা অনেক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ভুয়া তথ্যে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এখন ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বড় একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন মতে, নির্বাচনকে ঘিরে বানানো উক্তি, বিকৃত ছবি এবং বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নামে মিথ্যা বক্তব্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার সম্পর্কহীন ছবি ব্যবহার করে বিদেশি সমর্থন বা আন্তর্জাতিক উত্তেজনার ভুয়া ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
দেশে ভোট উৎসব শুরু

 একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাজানো দৃশ্যে দেখানো হচ্ছে। যেমন, বানানো বৈঠক বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অপপ্রচার ভোটের আগে দলীয় বিদ্বেষ বাড়াতে পারে এবং অনেক ভোটারের মতামত প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যারা সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই না করেই বিশ্বাস করেন।

 ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান ড. দীন এম সুমন রহমান বলেন, ‘ভুল তথ্য প্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটারের পছন্দকে প্রভাবিত করা। যেসব ভোটার আগে থেকেই কোনো দল ঠিক করে রেখেছেন, তাদের সেই সিদ্ধান্তকে আরও শক্ত করতে এসব অপপ্রচার কাজ করে।’ তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ভুয়া তথ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটাররা, যারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম