Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

পাহাড়ি আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক শক্তি, কারা এই হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

পাহাড়ি আন্দোলন থেকে আঞ্চলিক শক্তি, কারা এই হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী?

হুতি বিদ্রোহীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিস্তৃত সংঘাতের নতুন পক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। 

শনিবার (২৮ মার্চ) গোষ্ঠীটি ইসরাইল অভিমুখে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ঘোষণা দেয়, যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও। 

মূলত গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় হুথিরা এখন ইসরাইল ও পশ্চিমা বিরোধী লড়াইয়ে সরাসরি অংশ নিচ্ছে।

হুথি আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক নাম ‘আনসার আল্লাহ’ বা আল্লাহর সাহায্যকারী। ১৯৯০-এর দশকে হুসেইন আল-হুথির নেতৃত্বে জাইদি শিয়া মতবাদের পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে 'বিলিভিং ইয়ুথ' নামে একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬২ সালের গৃহযুদ্ধের পর ইয়েমেনে সুন্নি শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে জাইদিরা রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই বঞ্চনা দূর করতে এবং প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের ওয়াহাবি মতাদর্শের প্রভাব রুখতে আল-হুথি তার আন্দোলন গড়ে তোলেন। 

২০১৪ সালে হুথি বাহিনী ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের দমনে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে এটি একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হলেও ছয় মাস পর তার মেয়াদ শেষ হয়, যদিও বর্তমানে সেখানে পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ স্তিমিত রয়েছে।

হুথিদের প্রধান শক্তি ও মিত্র হলো ইরান। ২০১৪ সাল থেকে ইরান ও সৌদি আরবের আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুথিদের প্রতি তেহরানের সমর্থন ও সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি পায়। 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-এর এক রিপোর্ট জানায়, ইরান এই গোষ্ঠীকে সমুদ্র মাইন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। হুথিরা বর্তমানে ইরানের নেতৃত্বাধীন 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স' বা প্রতিরোধ অক্ষের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মূলত ইসরাইল ও পশ্চিমাবিরোধী একটি আঞ্চলিক জোট।

মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, হুথিদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নিখুঁত লক্ষ্যভেদ এবং ধ্বংসক্ষমতা দিন দিন বাড়ছে। শুরুতে ইরানের পাঠানো যন্ত্রাংশ দিয়ে ইয়েমেনে অস্ত্র সংযোজন করা হলেও এখন তারা অনেক বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। ইতিপূর্বে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ড্রোন ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এমনকি ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন জাহাজেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে।

সূত্র: সিএনএন


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম