ইরানে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বাস্টার বোমা কী? কতটা ভয়ানক?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ইরানে বিপুল সংখ্যক বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের ইসফাহান শহরে ৯০০ কেজি ওজনের বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দেওয়া উদ্ধৃতিতে মার্কিন এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোররাতে ইসফাহানের এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র গুদামে হামলাটি চালানো হয়, এ হামলায় ২০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ হামলায় বিপুল সংখ্যক বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে।’
বাঙ্কার বাস্টার কী?
‘বাঙ্কার বাস্টার’ হলো এমন ধরনের বোমা, যা শক্ত ইস্পাতের আবরণ দিয়ে তৈরি। এই বিশেষ আবরণ বোমাটিকে মাটি ও কংক্রিটের একাধিক স্তর ভেদ করে নির্দিষ্ট গভীরতায় পৌঁছানোর পর বিস্ফোরিত হতে সাহায্য করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংকের অস্ত্র বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রোবস্ট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এ ধরনের বোমায় বিস্ফোরকের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমও হতে পারে, কিন্তু এর শক্ত আবরণই এটিকে মাটির গভীরে ড্রিলের মতো ঢুকে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম করে।’
কিছু বাঙ্কার বাস্টারে ‘হার্ড টার্গেট স্মার্ট ফিউজ’ (এইচটিএসএফ) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি বোমাটি কতগুলো স্তর বা ‘ফ্লোর’ অতিক্রম করছে কিংবা ঘনত্বের পরিবর্তন বুঝে—যেমন কোনো খোলা চেম্বার বা ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে ঢুকলে—ঠিক সময়ে বিস্ফোরণ ঘটায়।
এমনকি কিছু বোমায় মাইক্রোফোনও থাকে, যা মানুষের কণ্ঠস্বর শনাক্ত করার পরই বিস্ফোরিত হয়।
বাঙ্কার বাস্টারের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক শুধু এর বিস্ফোরণ শক্তি নয়, বরং এটি এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে যেখানে সাধারণ বোমা পৌঁছাতে পারে না।
এই ধরনের বোমা নতুন নয়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এর ব্যবহার শুরু। উদাহরণস্বরূপ, বিএলইউ-১০৯ নামের একটি বাঙ্কার বাস্টার ১৯৮৫ সালে ব্যবহারে আসে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় যেখানে পাহাড়ি এলাকা ও গভীর গুহায় কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল—নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ধরনের বোমার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

