Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

‘৪ তারিখের পর কে বাঁচাবে’— অভিষেকের মন্তব্যে তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গ

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

‘৪ তারিখের পর কে বাঁচাবে’— অভিষেকের মন্তব্যে তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

বিধানসভা ভোটের উত্তপ্ত আবহে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বক্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনি প্রচারে বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া একাধিক কড়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার তার বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল নির্বাচনি জনসভায় বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। তার এ মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ নয়; বরং তা বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে হুমকি এবং সম্ভাব্য সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার সামিল।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন নির্বাচনি সভায় অভিষেকের দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ, বক্তব্যের প্রতিলিপি এবং একাধিক ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে বাগুইআটি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সমাজমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের প্রভাব, জনমনে তার প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে যেসব ধারায় মামলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি জামিন অযোগ্য হওয়ায় বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক সুরে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিজেপি সংগঠন এবং বিরোধী শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে দেখা যায় তাকে। ঐ সময় থেকেই বিরোধীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছিল, তার বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করছে।  

যদিও এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করছেন অনেকে। তৃণমূলের একাংশের মতে, নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির আশঙ্কা থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে এ ধরনের মামলা করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মঞ্চে কড়া ভাষায় আক্রমণ নতুন কিছু নয়; কিন্তু বিরোধীদের চাপে প্রশাসনিক পদক্ষেপকে হাতিয়ার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের বক্তব্য, রাজনৈতিক বক্তব্যেরও একটি সীমা থাকা উচিত। বিরোধী দলের অভিযোগ, জনসভা থেকে প্রকাশ্যে হুমকির ভাষা ব্যবহার গণতান্ত্রিক পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক এবং আইনের চোখে তা গুরুতর অপরাধ। 

বিজেপির এক নেতা বলেছেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বার্তা দেওয়া যায় না।

এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে এই মামলা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই মামলার রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা গভীর হয়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম