অর্ণবের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশায় সতর্কতা জারি
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ছবি: উইন্ডিডটকম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হতে শুরু করেছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। তবে ঝড়ের প্রভাব কাটেনি। অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ব্যাপক ঝোড়ো হাওয়া, গাছপালা উপড়ে পড়া ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার অবনতি শুরু হয়েছে। সুন্দরবনসহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবৃষ্টি হচ্ছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে নদী ও সমুদ্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। ওড়িশায় ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া চলে। ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও শক্তি হারানোর পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ের প্রভাব বেশি ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকায় আকাশ মেঘলা রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হচ্ছে। নদী ও সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় গঙ্গাসাগর, বকখালি ও মৌসুনিতে সাগরে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উপকূলবর্তী এলাকায় বিপদের আশঙ্কা সম্পর্কে মাইকে প্রচার চালাচ্ছেন নাগরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাকদ্বীপে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন রয়েছে। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আবহাওয়ার আরও অবনতি হলে সুন্দরবনের বিভিন্ন পথে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবী ও উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওড়িশায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সরানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ওড়িশা সরকারও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজ্যটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন, ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ওড়িশার জেলাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে।
মালকানগিরি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট, মালকানগিরি ও নবরংপুর জেলার নিচু এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের ৩০টি জেলার মধ্যে ১৬টি জেলায় বুধবার বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২ হাজার ৩৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওড়িশার কয়েকটি দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। প্রথমে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আরও কমবে, পরে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

