Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

শিক্ষার্থীদের ওপর কেন অস্ত্র ব্যবহার করা হলো, মোদি-শাহকে জবাব দিতে হবে

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

শিক্ষার্থীদের ওপর কেন অস্ত্র ব্যবহার করা হলো, মোদি-শাহকে জবাব দিতে হবে

তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসী ছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হলো?

Advertisement

ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ক্যামেরার কোণ পরিবর্তন করে নয়, বরং হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেই তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে হবে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসী ছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হলো?

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের সমাধান না করে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি লাঠির আঘাত শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারের ভাবমূর্তির বেশি ক্ষতি করেছে।

রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশের তরুণরা এমন একটি ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে, যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এখনো কোনো ‘প্রশ্নফাঁস চক্রের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত ব্যয় অনেক বেশি।

এদিকে, কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় ১৯ বছর বয়সি মহারাষ্ট্রের নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের রেখে যাওয়া একটি চিঠি পড়ে শোনান। অঙ্কিতা ১১ নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত কাট-অফে পৌঁছাতে না পেরে গত ২৫ জুলাই আত্মহত্যা করেন।

ভেনুগোপাল বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ২০১৪ সালের ৮ হাজার ৬৮ থেকে বর্তমানে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮ হয়েছে। তিনি এটিকে শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি ‘ভয়াবহ সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের কোণ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তার এ মন্তব্যে সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যরা আপত্তি জানালে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয় এবং স্পিকার ওম বিড়লা কিছু মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভেনুগোপাল আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়। যারা তাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সূত্র: দ্যা হিন্দু

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম