সাইবার অপরাধীদের জালিয়াতি রোখার গোপন চাবিকাঠি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ ভয়েস স্ক্যাম এখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি করছে।
আপনার প্রিয়জনের অবিকল কণ্ঠস্বর কিংবা তাদের বিপদে পড়ার আকুতি ফুটিয়ে তুলে মুহূর্তেই হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। প্রযুক্তির এই ভয়াবহ অপব্যবহার থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা এক সহজ কিন্তু কার্যকর সমাধানের কথা বলছেন, আর তা হলো—পরিবারের জন্য একটি গোপন শব্দ বা ‘কোডওয়ার্ড’ নির্ধারণ করে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অধিবাসী এলিজাবেথ বেনজের অভিজ্ঞতা সাইবার অপরাধীদের এই মনস্তাত্ত্বিক চক্রান্তকে স্পষ্ট করে তোলে। সম্প্রতি এক ভয়াবহ ফোনকলে তিনি শুনতে পান তার ষোলো বছরের ছেলে জন কান্নাজড়ানো গলায় বলছে, তার এক বন্ধু মারা গেছে। মুহূর্তের মধ্যে ফোনের ওপাশ থেকে এক অচেনা ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ দাবি করে বসে, অন্যথায় ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। চরম আতঙ্কে তিনি টাকা দিতে ছুটে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে জ্যেষ্ঠ সন্তানের মাধ্যমে জানতে পারেন জন সম্পূর্ণ নিরাপদে ফুটবল মাঠে খেলছে।
ফোনকলটি আসলে ছিল এআই দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেক জালিয়াতি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এলিজাবেথ বেনজের পরিবারে একটি কোডওয়ার্ড আগেই ঠিক করা ছিল, কিন্তু আচমকা তৈরি হওয়া ভয়ের কারণে সেটি ব্যবহারের কথা তার মাথায়ই আসেনি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই স্ক্যাম এখন আর কাল্পনিক কোনো বিষয় নয়। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ এই চক্রের ফাঁদে পড়ে জীবনের জমানো সঞ্চয় হারাচ্ছেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ডিপফেক গবেষক হ্যানি ফারিদ জানান, হুট করে গভীর রাতে প্রিয়জনের বিপদের খবর বা কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক সহায়তার দাবি এলে মানুষ বিচলিত হয়ে পড়ে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে সত্যতা যাচাইয়ের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় হলো একটি পূর্বনির্ধারিত কোডওয়ার্ড ব্যবহার করা। এমন কোনো গোপন শব্দ বা ভেতরের জোকস বেছে নিতে হবে, যা কেবল পরিবারের সদস্যরা ছাড়া অন্য কারও জানার কথা নয়।
তবে কেবল কোডওয়ার্ড ঠিক রাখাই যথেষ্ট নয়, এটি সঠিক সময়ে মনে রাখা ও ব্যবহার করার মানসিক প্রস্তুতি থাকা দরকার। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণার তিনটি স্পষ্ট লক্ষণ থাকে। প্রথমত, অপরাধীরা বিষয়টিকে ভীষণ জরুরি হিসেবে উপস্থাপন করে যাতে চিন্তা করার সময় না পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, তারা বিটকয়েন, গিফট কার্ড বা নগদ টাকার মতো অচিহ্নিত উপায়ে অর্থ চায়। এবং তৃতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্য কারও সাথে কথা বলতে বাধা দিয়ে আলাদা করে ফেলার চেষ্টা করে।
প্রতারকদের এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ থেকে বাঁচতে মানসিক সচেতনতা ও নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। প্রতি কয়েক মাস পর পর পরিবারের সদস্যরা মিলে কোডওয়ার্ডটি মনে করিয়ে নেওয়া এবং যেকোনো জরুরি বা অস্বাভাবিক ফোনকলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে গোপন শব্দটি যাচাই করার অভ্যাস তৈরি করাই পারে এআই জালিয়াতি থেকে স্বজনদের নিরাপদ রাখতে।
সূত্র: বিবিসি।


