Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করছে ইউক্রেন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

যুদ্ধের খরচ মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করছে ইউক্রেন

প্রতীকী ছবি

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিপুল খরচ সামলাতে এবার ভিন্নধর্মী এক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউক্রেন। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে এবং সেনাবাহিনীর রসদ জোগাতে পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন বিনোদন শিল্পকে বৈধ করে তার ওপর কর বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি বা শেয়ার করা সম্পূর্ণ বেআইনি, যার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ সাত বছরের জেল হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইন্টারনেটে বিশাল এক অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। 

বিশেষ করে ‘অনলিফ্যানস’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় তরুণ-তরুণী কনটেন্ট বানিয়ে বিপুল অর্থ আয় করছেন। হিসাব মতে, শুধু ২০২৩ সালেই প্রায় আট হাজার ইউক্রেনীয় এই মাধ্যম থেকে ১৩ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

এতদিন তারা গোপনে কাজ করলেও বিপত্তি বাধে যখন সরকারের আয়কর বিভাগ এদের কাছ থেকে কর আদায় শুরু করে। নিয়ম মেনে কর দিতে গেলে আবার উল্টো পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে অবৈধ পর্নোগ্রাফির মামলা ঠুকে দিচ্ছিল। এই অদ্ভুত সমস্যা কাটাতে এবং রাজস্ব বাড়াতে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির প্রধান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক জানান, পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করে করের আওতায় আনা গেলে প্রতি বছর অন্তত ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার রাজস্ব আসবে। এই টাকা দিয়ে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এক বছরে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনা সম্ভব হবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে এক জনপ্রিয় অনলিফ্যানস মডেল সভেতলানা দ্বোরনিকোভার বড় ভূমিকা রয়েছে। পুলিশি হয়রানির শিকার হয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়েবসাইটে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার দাবিতে একটি আবেদন করেন। খুব দ্রুতই হাজার হাজার মানুষ সেই আবেদনে সই করলে প্রেসিডেন্ট বিষয়টি পার্লামেন্টে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

প্রস্তাবিত আইনটি ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—নিজেদের সম্মতিতে করা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে পুলিশের দুর্নীতি ও ব্ল্যাকমেইল বন্ধ হয় এবং সেই করের টাকায় দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা যায়।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম