আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার
বিএপিএস হিন্দু গোষ্ঠীর দাবির মুখে আইফেল টাওয়ার বন্ধ করতে হয়েছিল, এরা কারা?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্প্রতি হিন্দু ধর্মীয় একটি সংগঠনের বেসরকারি পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অভিযোগে ফ্রান্সের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারে কর্মীরা ধর্মঘট পালন করেন। এর ফলে সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সাময়িকভাবে টাওয়ারটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে টাওয়ারটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
বচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস) নামের একটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের পরিদর্শনের পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ ওঠে, ওই সংগঠনের পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় টাওয়ারের শ্রমিক ইউনিয়ন তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ফরাসি রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হিন্দু সংগঠনটি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
বিতর্কের কারণ কী?
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে বিএপিএস সংগঠনটি তাদের শনিবারের (০৫ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনের সময় নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ করেছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, এই শর্তটি তাদের কখনোই মেনে নেওয়া উচিত ছিল না।
বিএপিএস-এর সাধুরা কঠোর নিয়ম মেনে চলেন, যার অংশ হিসেবে তারা নারীদের সঙ্গে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখেন এবং বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে ন্যূনতম ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা মেলামেশা এড়িয়ে চলেন। তবে সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা এই নিয়মের আওতায় পড়েন না।
সম্প্রতি আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসা দলে সাধু এবং সাধারণ অনুসারী—উভয়ই ছিলেন।
আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের দূরে রাখার ঘটনা অত্যন্ত অপমানজনক। প্যারিস প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার দ্রুত একটি তদন্ত শুরু করা হবে।
সংগঠনের বক্তব্য ও ফ্রান্সের ক্ষোভ
১৯০৭ সালে ভারতে প্রতিষ্ঠিত বিএপিএস বিভিন্ন দেশে মন্দির পরিচালনা করে থাকে এবং প্যারিসেও তাদের একটি মন্দির রয়েছে।
ঘটনার পর বিএপিএস-এর প্যারিস শাখা থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা কাউকেই আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেয়নি। তবে এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বা সমস্যায় পড়ে থাকলে তারা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছেন।
অন্যদিকে, নারীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফরাসি মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফ্রান্সে নারী-পুরুষের সমতা একটি মৌলিক অধিকার। কোনো ধর্মীয় নিয়ম বা মতাদর্শের অজুহাতে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মাটিতে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বা তাদের পিছু হঠাতে বাধ্য করা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
পূর্বের কিছু বিতর্ক
বিএপিএস পূর্বেও বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—১৯৬৬ সালের একটি আইনি লড়াই, যেখানে দলিত বা নিম্নবর্ণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকারী আইন থেকে বাঁচতে বিএপিএস নিজেদের হিন্দু ধর্মের অংশ নয় বলে দাবি করেছিল, যা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়।
এ ছাড়া ২০১৩ সালে দুই সাবেক সন্ন্যাসী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনলে সংগঠনটি তা অস্বীকার করে।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির একটি মন্দিরে নিম্নবর্ণের ভারতীয় শ্রমিকদের কম মজুরিতে অতিরিক্ত পরিশ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে সংগঠনের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা করা হয়, যার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।

