শর্ত দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ালেও আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরানি প্রতিনিধিদলকে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরানি সরকারের মূল প্রতিনিধিদলকে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে এবার ইরানের প্রতিনিধিদলের আকার ছোট রাখা হবে। পাশাপাশি তাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং বিলাসপণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাধান দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা কিংবা যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা আবার শুরু হওয়ার পথও পরিষ্কার নয়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্রপথে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহণ হয়। প্রণালিটির চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বারবার দাবি করছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে। সম্প্রতি তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রশাসন তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে।
তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য এলাকাতেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে হুথি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানি প্রতিনিধিদলকে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে আব্বাসের মতো সাধারণত জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকা নেতাদের এবারও অনলাইনে বক্তব্য দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে জাতিসংঘে আগে থেকেই অনুমোদিত ফিলিস্তিনি কূটনীতিকরা আগামী সপ্তাহের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আব্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য, এসব কর্মকর্তার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


