সীমান্তে চীন-পাকিস্তানের নতুন উদ্যোগে আপত্তি কেন ভারতের?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ভারত-পাকিস্তান ও চীনের মাঝে সীমান্ত বিরোধ রয়েছে (লাল বৃত্তে থাকা অংশ)। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হিমালয়ের বিতর্কিত অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারে নতুন উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দিল্লির দাবি, পাকিস্তান-চীন যে সীমান্ত নিয়ে কাজ করছে, তার একটি অংশ ভারতের ভূখণ্ড।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তান ও চীন ‘বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ কার্যকর করার বিষয়ে চুক্তি করেছে। ইসলামাবাদ বলছে, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়বে।
তবে ভারত বলেছে, দেশটি ওই সীমান্তকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেয় না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তথাকথিত জয়েন্ট কমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’
নতুন উদ্যোগের আওতায় রয়েছে শাকসগাম ভ্যালি। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত অঞ্চলটিকে লাদাখের অংশ দাবি করে এবং ওই চুক্তিকে অবৈধ বলে মনে করে।
দিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তান আগে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে পরে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো বিতর্কিত অঞ্চল। তাই চীনের সঙ্গে ১৯৬৩ সালের চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার ভারতের নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কমিশনটি পুরোপুরি নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়। ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই যৌথ সীমান্ত কমিশনের ব্যবস্থা ছিল। এখন সেটিকে কার্যকর করা হচ্ছে।
তবে এর মাধ্যমে সীমান্তে অবৈধ পারাপার নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ বাড়ানো এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) মতো কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞ জাবিন টি জ্যাকব সতর্ক করে বলেছেন, এই উদ্যোগকে ভারতের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে এর এলএসি-তে কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব নেই।
তবুও ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পাকিস্তান ও চীনের ঘনিষ্ঠতা এবং বিতর্কিত ভূখণ্ডে তাদের যৌথ কার্যক্রম দিল্লির দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

