Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

Advertisement

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তার প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। বৈঠকটিকে ‘খুব ভালো’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, অদূর ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে।

পরে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া ইরানি কর্মকর্তারা ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ ছিলেন না, তবে এটিকে তিনি একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। জুনের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি আলোচনা।

উইটকফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। তারা মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে যাতায়াত করে আলোচনা এগিয়ে নেন। এই উদ্যোগ ‘গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক’ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন। তবে কয়েক মাস ধরে দুই দেশের যোগাযোগে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

হরমুজের কাছে বিস্ফোরণ

ইরানি প্রতিনিধিদল যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত, তখন হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কেশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এবং দেশটিতে মুদ্রা সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে থাকা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প।

এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, সমস্যার সমাধানে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ট্রাম্প। তবে আলোচনায় বসা মানেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে—এমন নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী করণীয় নিয়ে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। জর্ডানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে এবং সংঘাতের অবসানে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। তবে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘দ্রুত ধ্বংস’ করার হুমকিও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আরেক দিনের জন্য বিপদ বাড়তে দেওয়ার কোনো আগ্রহ আমার নেই।’

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম