২৯৬ শিক্ষার্থী নিহতের পর ছাত্রদের প্রতি যে আহ্বান খামেনির
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জ্ঞান, বিশ্বাস ও নৈতিকতা একসঙ্গে থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘লোহার ঢাল’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালু উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় খামেনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আধিপত্যবাদী শক্তির বর্বরতা চলছে। বিশেষ করে অপরাধী মার্কিন সরকার ও কৃত্রিম জায়নবাদী শাসনের আগ্রাসন বেড়েছে। এ অবস্থায় জ্ঞান, খোদাভীতি ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শক্তি ইস্পাত-কঠিন ঢাল ও তীক্ষ্ণ তলোয়ারের মতো কাজ করতে পারে। এই শক্তি মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসনকারীদের হাত বিচ্ছিন্ন করে দিতে সক্ষম।
ইরানে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সময় এ বার্তা দেন খামেনি। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় জ্ঞান বাড়ানো, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং পরিবার, সহপাঠী ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।
ইরানের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার সীমা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতি অর্জনের দায়িত্ব পালনের কথাও বলেন খামেনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, ফারসি ভাষা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতীকগুলো সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে খামেনি শিক্ষার্থীদের ইরানের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিহত সদস্যদের স্মরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হলেও কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের অনুপস্থিতি অনুভূত হবে।
ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ২৯৬ জন ইরানি শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জনের বেশি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিনে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটিতে মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনী পরপর দুটি হামলা চালায়। এতে ১৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।
নিহত শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি অনুভূত হবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, এই শোক মানুষের চিন্তাকে ভালো-মন্দ এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যকার সংগ্রামের প্রকৃত স্বরূপের দিকে পরিচালিত করবে।
শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদেরও প্রশংসা করেন তিনি। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আরও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
শিক্ষকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথাও স্বীকার করেন খামেনি। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া অতীতের প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী ইরানকে রক্ষা করেছেন, তারা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তরুণদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অভিনন্দন জানিয়ে খামেনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্ম বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নে আরও সাফল্য অর্জন করবে।
সূত্র: প্রেস টিভি

-6ab36d2ba69e6.jpg)