Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ’কাবুকি’ কূটনীতি!

Advertisement

Icon

আবদুস সামাদ আজাদ

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ’কাবুকি’ কূটনীতি!

মাসুদ পেজেশকিয়ান। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পালটাপালটি হুমকি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থাটির ৮১তম এই অধিবেশনে শত্রুতাপূর্ণ দুদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন, তেমনি তেহরানও সামরিকভাবে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান দিয়েছে।

তবে প্রকাশ্য হুমকির আড়ালে অধিবেশন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগও দেখা গেছে।  

তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যা করেছে তা ‘কাবুকি থিয়েটার’ কূটনীতি বা লোক দেখানো কূটনীতি। 

  • ট্রাম্প তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও অদম্য আরাগচি
  • গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরাইলের হামলা বন্ধ চায় তেহরান 

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান জাতিসংঘের মঞ্চে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেছে। প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফেরার কথা জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রকে আগে সামরিক চাপ কমাতে হবে বলেও শর্ত দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাঘ্রখ্যাত দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারও চায় তারা।

তবে ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করবে বলে জানিয়েছে।

বিসিসি জানিয়েছে, টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে বলেছেন, অতীতে ট্রাম্প একইরকম পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি তেহরানের প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, ইরান অবিলম্বে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করতে চায় কারণ ইরান নিজেই খুব বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

শুক্রবার জাতিসংঘে আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ হলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি জানান, প্রণালিটি খুলে দেওয়ার শর্তগুলো সেই শর্তেরই অনুরূপ যা জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও ইরানের জবাব

জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে কড়া ভাষায়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য ছিল, সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠিন, ধ্বংসাত্মক হামলার হুমকি দিয়েছে। 


রয়টার্স লিখেছে, বক্তব্যে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর হলেও তারা প্রকাশ্যে বৈঠক করেছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

জাতিসংঘে দুই দেশের প্রকাশ্য অবস্থান উত্তেজনাপূর্ণ হলেও কূটনৈতিকভাবে দরজা তারা খোলা রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। ইরানও আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেনি।

তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শর্তগুলো মেনে নিলে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

হরমুজ নিয়ে অনড় ইরান

হরমুজ প্রণালিকেই ইরান প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রেখেছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়া যেতে পারে।

তবে তেহরান চায়, যুক্তরাষ্ট্র সমাধান চায় কি না তা কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি তাদের জানাতে হবে এবং আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ইরান তার প্রস্তাবে বলেছে, প্রথমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরাইলের হামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আটকে দেওয়া ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদের ছাড় দাবি করেছে তেহরান। সবশেষে সপ্তম দিনে হরমুজ পুনরায় খুলে দিয়ে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। 

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরান কখনও আত্মসমর্পণ করবে না। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভিও হুমকি দিয়ে বলেছেন, সামরিক চাপের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার আশা করা বোকামি হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য।  

আলোচনার দরজা খোলা রাখা নিয়ে সংশয়

বার্তা সংস্থা এপি লিখেছে, জাতিসংঘের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থানে থেকেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। ট্রাম্পের কঠোর হুমকির থাকলেও তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ দেখান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একইরকম আগ্রহ দেখা গেছে। 

তবে আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মুখে পড়ার ঘটনা পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে নতুন করে আলোচনায় বসা নিয়ে তেহরান গভীর সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।  

গত জুন মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাও পরে ভেস্তে যায়। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনের ১৭ তারিখে ওই সমঝোতা হয়েছিল। এই চুক্তিতে ৬০ দিনের আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। পরে হামলা ও সমঝোতার ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেটি ভেঙে যায়। পরে ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সমঝোতা বাতিল করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতির সমালোচনায় পেজেশকিয়ান

স্টিমসন সেন্টার লিখেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ অধিবেশনে তার বক্তব্যে কূটনৈতিক পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কোনো অভিপ্রায় ইরানের নেই। তেহরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুদ কমিয়ে আনতে প্রস্তুত- তবে তা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখে নয়।  

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ট্রাম্প এবং যারা আমাদের ওপর আধিপত্য বা জোরজবরদস্তি চালাতে চায়, তাদের শক্তির ভাষা বা বলপ্রয়োগ আমরা মেনে নেব না। তাদের বুঝতে হবে, আমরা শুধু সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত, বাড়াবাড়ি সহ্য করব না। 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা করেন, ইসরাইল মানুষ হত্যা করছে অথচ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। ইসরাইলের কাছে অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের দাবি তোলা হচ্ছে। 

অথচ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

সাত দিনের ‘আলটিমেটামের’ আগেই ইরানকে জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প

সাত দিনের ‘আলটিমেটামের’ আগেই ইরানকে জবাব দিয়েছেন ট্রাম্প

‘ইরানের হাতে টাকা-পয়সা নেই, তারা অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে’

‘ইরানের হাতে টাকা-পয়সা নেই, তারা অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকছে’

‘শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে ইরান, এখন চুক্তি করতে চায়’

‘শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে ইরান, এখন চুক্তি করতে চায়’

জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণ এক ‘নতুন ইতিহাস’

ড. খন্দকার মারুফ হোসেন জাতিসংঘে জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণ এক ‘নতুন ইতিহাস’

হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট

হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে অংশ নেননি যেসব বিশ্বনেতা

মোদি থেকে পুতিন জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে অংশ নেননি যেসব বিশ্বনেতা

আরও পড়ুন

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন নভেম্বরে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান

নভেম্বরে ভারত সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান

আমেরিকার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই: পেজেশকিয়ান

আমেরিকার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই: পেজেশকিয়ান

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ’কাবুকি’ কূটনীতি!

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ’কাবুকি’ কূটনীতি!

দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় বন্দুক হামলা, নিহত ১৭

দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় বন্দুক হামলা, নিহত ১৭

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম