ভোটচোর বলেই ভোটারকে ভয় নেই, প্রবেশের চড়কাণ্ডে রাহুলের তোপ
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাস্তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এক যুবক। সেই প্রশ্নের জবাবে ভারতের দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পূর্তমন্ত্রী প্রবেশ সাহিব সিং বর্মার চড় মারার ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিজেপিকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীনরা এখন আর ভোটারদের ভয় পান না, ভোটচুরির কারণেই এমন ঔদ্ধত্য তৈরি হয়েছে।
রোববার পশ্চিম দিল্লির তিলক নগরে রাস্তা নির্মাণের কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন প্রবেশ বর্মা। সেখানে স্থানীয় বিধায়ক জারনাইল সিংও উপস্থিত ছিলেন। রাস্তার গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবকের সঙ্গে বর্মার কথা কাটাকাটি হচ্ছে। একপর্যায়ে বর্মা যুবকের হাতে থাকা ফোন সরিয়ে দিয়ে তাকে চড় মারেন বলে অভিযোগ। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা ওই যুবককে সরিয়ে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী যুবকের নাম সাহেব সিং।
তার দাবি, স্থানীয় বিধায়কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ করেন তিনি। পূর্ত দপ্তরের ডাকে রাস্তা পরিদর্শনের সময় তিনি রাস্তার ওপরের অংশ হাতে উঠে আসার বিষয়টি ভিডিও করছিলেন। তার অভিযোগ, রাস্তার নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তাকে চড় মারা হয়।
ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করে প্রবেশ বর্মার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রবেশ বর্মা ঘটনার অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আম আদমি পার্টির কর্মীরা তাকে এবং তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই হাতাহাতি হয় বলে তার বক্তব্য।
বর্মা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় আপ বিধায়ক জারনাইল সিং ঠিকাদারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং কমিশনের ব্যবস্থা করার জন্য পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন। তার দাবি, রাস্তা নির্মাণের পর রাতের অন্ধকারে রাস্তা খুঁড়ে ফেলা হয় এবং পরে সেটিকে নিম্নমানের কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
রাহুল গান্ধী সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, রাস্তায় প্রশ্ন করলে চড়, প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রশ্ন করলে লাঠিচার্জ, আর সংসদে প্রশ্ন করলে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীনদের ভোটারদের কাছে জবাবদিহির ভয় কমে যাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।রাহুল আরও বলেন, ভোটচুরির অর্থ শুধু নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি নয়, এর ফলে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এমন ঔদ্ধত্যও তৈরি হয় যে তারা জনগণের সম্মতির প্রয়োজন বোধ করেন না।রাহুলের মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছেন প্রবেশ বর্মা। তিনি রাহুলকে উদ্দেশ করে বলেন, বিষয়টি থেকে দূরে থাকাই তার ভালো, কারণ তিনি ঘটনার কিছুই জানেন না।
এদিকে সাহেব সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাহেব সিংয়ের বিরুদ্ধে আগের একটি হামলার মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রাস্তার মান নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ তাই এখন দিল্লির রাজনীতিতে ক্ষমতা, জবাবদিহি এবং ভোটারদের সঙ্গে শাসকদের আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


