বিক্রির অপেক্ষায় ৩৫ বেডরুমের সেই ভৌতিক প্রাসাদ ‘হন্টেড প্যালেস’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা এবং রহস্যময় নানা গল্পে ঘেরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর বিখ্যাত ‘আল কাসিমি প্যালেস’ এবার নতুন মালিকের সন্ধানে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। আসবাবপত্র ও পুরোনো নিদর্শনসহ ৩৫ বেডরুমের এই বিশাল প্রাসাদটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম।
প্রাসাদের ইতিহাস ও নির্মাণশৈলী
১৯৮৫ সালে রাস আল খাইমাহর শাসক পরিবারের সদস্য প্রয়াত শেখ আবদুল আজিজ বিন হুমাইদ আল কাসিমি এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন। এর চমৎকার নকশা ও নান্দনিক সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছিলেন ইরান, মরক্কো, ভারত ও চীনের দক্ষ কারিগররা। প্রাসাদের সুদৃশ্য মোজাইক, টাইলস এবং দেয়ালচিত্রের প্রতিটি কোণেই তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্ট।
‘হন্টেড প্যালেস’ হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনি
নির্মাণের পর দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর এই প্রাসাদটি সম্পূর্ণ খালি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এই দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত থাকায় সেখানে অদ্ভুত সব শব্দ শোনা, রাতে রহস্যময় আলো জ্বলা-নেভাসহ নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার গুজব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর এসব লোককথা ও রহস্যময় গল্পের কারণেই ভবনটি পরিচিত লাভ করে ‘হন্টেড প্যালেস’ নামে। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এসব অতিপ্রাকৃত বা ভূতুড়ে ঘটনার পেছনে কোনো বাস্তব সত্য বা প্রমাণ নেই।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে প্রাসাদটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে দর্শনার্থীরা মাত্র ৭৫ দিরহাম প্রবেশমূল্য পরিশোধ করে ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
প্রাসাদের স্থাপত্য ও সুযোগ-সুবিধা
জমির পরিমাণ: প্রাসাদটির মূল জমির আয়তন প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৪২ বর্গফুট এবং এর ভেতরের ভবনের আয়তন ৩৩ হাজার ৮২৭ বর্গফুট।
দ্বিতীয় তলা: এই তলায় রয়েছে একটি চমৎকার ও বড় সাদা পিরামিড আকৃতির কাঠামো, যার চারপাশ ঘিরে রয়েছে আটটি দৃষ্টিনন্দন বেডরুম।
তৃতীয় তলা: ভবনের এই বিশেষ অংশে রয়েছে রাশিচক্রের প্রতীক আঁকা একটি অনন্য ছাদ এবং একটি সুবিশাল ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি।
মূল্যবিন্যাস: আসবাবপত্র ছাড়া প্রাসাদটির দাম ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ দিরহাম এবং সব আসবাব, পুরোনো নিদর্শন ও সংগ্রহসহ এর দাম রাখা হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ দিরহাম।
ক্রেতাদের আগ্রহ ও সংস্কারের স্বাধীনতা
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা এই প্রাসাদটি ক্রয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ এটিকে নিজের বসবাসের জন্য ব্যক্তিগত প্রাসাদ বানাতে চান, আবার কেউ হোটেল, পর্যটনকেন্দ্র কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই ঐতিহাসিক প্রাসাদটির ওপর কোনো ধরনের ‘হেরিটেজ রেস্ট্রিকশন’ বা ঐতিহ্যগত নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে এর নতুন মালিক চাইলে নিজের পছন্দমতো ভবনটি সংস্কার, অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন কিংবা পুনর্নির্মাণ করতে পারবেন।
সূত্র: খালিজ টাইমস
