নতুন চুক্তির উদ্যোগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের, শর্তের জবাব চায় তেহরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাত মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা আলাদাভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আলোচনার পরবর্তী ধাপে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান যে সাত দিনের প্রস্তাব দিয়েছিল, তার সংশোধিত একটি সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। সাত মাসের সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।
মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার মাধ্যমে এর আগে এপ্রিল ও জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে উভয় চুক্তিই অল্প সময়ের মধ্যে ভেঙে পড়ে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর নিউইয়র্কেই রয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান তাদের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক যান চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের শর্তেরও জবাব চায় তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি দাবি করে যে তারা একটি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে আমরা সেই সমাধানই উপস্থাপন করেছি।’
অন্যদিকে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তবে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এ সপ্তাহে নতুন আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর অনুমতি দেবে। পাশাপাশি দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করবে। ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে, যা ট্রাম্পের অন্যতম দাবি।
শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষ্যমতে, অর্থনৈতিকভাবে কঠিন চাপে থাকা ইরান দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে। তবে রোববার অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, এ সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বলে তিনি আশা করছেন।
রোববার আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রত্যাখ্যানের কথা ইরানকে জানায়নি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শর্তগুলো স্পষ্ট। আর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ এই শর্তগুলো পূরণের ওপর নির্ভরশীল।’ তিনি আরও বলেন, অচলাবস্থার সমাধান কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।
সূত্র: সামা টিভি



