মার্কিন হামলা ঠেকাতে নারীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ এএম
নারীদের অস্ত্র চালনা এবং শহরের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধ করার সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ও যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলায় নারীদের অস্ত্র চালনা এবং শহরের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধ করার সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান।
সম্প্রতি ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিত্র ও ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের খোলা ময়দানে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ পোশাক ও সামরিক পোশাক পরা নারীদের কালাশনিকভ রাইফেল, ড্রাগুনভ স্নাইপার রাইফেল, আরপিজি এবং কাঁধে রেখে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র বা এয়ার ডিফেন্স লঞ্চারসহ ভারী অস্ত্র চালনার কসরত করানো হচ্ছে।
এই কোর্সে সামরিক কৌশলের পাশাপাশি নারীদের মানচিত্র দেখে দিক নির্ণয়, জরুরি উদ্ধার কাজ এবং অগ্নিনির্বাপণ কৌশলও শেখানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণের পর দেশটিতে ‘জান-ফাদা’ বা ‘যারা প্রাণ উৎসর্গ করেন’ নামক একটি সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রতিরোধ আন্দোলন চালু হয়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে নিবন্ধনের মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেন এবং মুহূর্তেই প্রথম এক হাজারটি ইউনিট পূর্ণ হয়ে যায়।
বিপুল সাড়ার কারণে সরকার আরও এক হাজারটি ইউনিট বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে প্রথম কেন্দ্রটি খোলার পর দেশজুড়ে এমন আরও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে মিলে এলাকাভিত্তিক যে উদ্ধার ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বড় অংশই নারী।
ইরানি কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে ১৯৮০ সালে ইরাকের আক্রমণের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দেওয়া ঐতিহাসিক ‘২০ মিলিয়নের বাহিনী’ গড়ার আহ্বানেরই এক আধুনিক পুনরুজ্জীবন হিসেবে দেখছেন।
দেশের ভেতরে এমন গণপ্রস্তুতির পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিচ্ছেন। ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর আবার যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে সেই আগুনে সবাই পুড়বে এবং মার্কিন স্বার্থে সীমা ছাড়া হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে, সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি দাবি করেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং নতুন করে হামলা হলে তার মর্মান্তিক ও চূর্ণবিচূর্ণকারী জবাব দেওয়া হবে।
তবে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির তোড়জোড় থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিতও দিচ্ছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বিদেশি কূটনীতিকদের জানান, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শর্ত পূরণ করা হলে এবং শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধ করা হলে ইরান মাত্র সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটনের কোনো একতরফা দাবি মেনে নেওয়া হবে না এবং মূল দাবিগুলো না মেটা পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে বলে প্রধান মধ্যস্থতাকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ইরান। মার্কিন প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা জোরদার করায় এবং তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ার কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

