নেপালে উদ্ধারকাজ বন্ধ ঘোষণা, নিখোঁজ এখনও ৫ হাজার ২৮৫ জন
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ করেছে নেপাল। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ৪০ দিন পর নেপালে আনুষ্ঠানিকভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। দেশটির মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ২৮৫ জন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর নেপাল সরকার জানিয়েছে, এখন আর নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন উদ্ধার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। তাই উদ্ধার অভিযানের পরিবর্তে বিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে জোর দেওয়া হবে।
সম্প্রতি রাজধানী কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে একটি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সুপারিশও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকারী দলগুলোর দেওয়া প্রতিবেদনও সরকারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গত ২৬ আগস্ট প্রবল হড়পা বানে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। ত্রিশূলী ও ভোতেকোশী নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নদীর প্রবল স্রোতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, দোকানপাট ও সরকারি স্থাপনা ভেসে যায়। বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বহু মানুষ নিখোঁজ হন।
দুর্যোগের পর নেপাল সরকার ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। নদী, পাহাড়ি এলাকা এবং ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু ৪০ দিন পরও হাজার হাজার মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নেপাল সরকারের হিসাবে দেশটিতে এখনও ৫ হাজার ২৮৫ জন নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ১৮৯ জন ভারতীয় নাগরিক। এ ছাড়া ৩৬টি দেশের ৬০৬ জন বিদেশি পর্যটকেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিব্বত অঞ্চলেও এই দুর্যোগে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এত বড় দুর্যোগের পরও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের কোনো সন্ধান না মেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শোক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান বন্ধ হলেও নিখোঁজদের স্বজনদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।

