বাব আল-মান্দেব দখলে ইয়েমেনি বাহিনীর অভিযান, পিছু হটছে হুথিরা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখলে ঝড়ের গতিতে অভিযান চালায় ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখলে ঝড়ের গতিতে অভিযান চালিয়েছে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। তারা প্রণালির আশপাশের উপকূল ধরে মোখা শহরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এতে গত মাসে দখল করা বেশিরভাগ এলাকা থেকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের পিছু হটতে হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেন সরকার।
এর পালটা জবাবে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে হুথিরা। তাদের দাবি, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগে আরামকোর একটি তেল শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি আর সৌদি আরব ও আরামকোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের চার কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলার সহায়তায় সরকারি বাহিনী সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে মোকা শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়। এ সময় হুথি যোদ্ধারা পার্বত্য এলাকার দিকে পিছু হটছিল। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরে দাবি করে, শহরটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
মোখা ও বাব আল-মান্দেব এলাকার নিয়ন্ত্রণ ইয়েমেন সরকারের হাতে গেলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে আসবে। এতে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার কারণে আগে থেকেই অস্থির জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে অন্য অবস্থান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা হুথিদের এখনো রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর ইয়েমেনে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ফ্রন্টে আবারও তীব্র লড়াই চলছে। হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সোমবার রাতে জানায়, তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় হোদেইদা প্রদেশে নৌ অভিযান চালিয়েছে। এর আগে সরকারি বাহিনী প্রণালির মুখে ধুবাব এলাকায় একটি বিমানঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখল করে। গত মাসে হুথিদের ওই এলাকা দখলের পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার ব্যাপ্তি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। হুথিরা সৌদি-সমর্থিত সরকারের দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের জনবহুল অনেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে তারা।
এদিকে ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের কাছে হুথিরাও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইয়েমেন সরকারের পাঁচ সামরিক সূত্রের দাবি, তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়কের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এতে সরকারি বাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে এক সরকারি কর্মকর্তা সড়কটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন।
হুথিরা সৌদি আরবের আকাশসীমায় চলাচলকারী যানবাহনেও হামলার হুমকি দিয়েছে।
এদিকে, সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের মিত্ররাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সোমবার রিয়াদে জরুরি বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।


