পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে গেলেন রাহুল গান্ধী
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে গেলেন রাহুল গান্ধী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল নয়াদিল্লি। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার ডাকা বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীদের বিশাল ভিড় ঠেলে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) ভবনের দিকে এগিয়ে যান কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। তার পেছনে বিপুল মানুষ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এ সময় বিরোধী সংসদ সদস্যরা ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’, ‘ভোট চোর, গদি ছোড়’-এর মতো স্লোগান দিতে দিতে এগোতে থাকেন।
পুলিশের একাধিক স্তরের ব্যারিকেডে আটকে গেলে হঠাৎ ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। এসময় তিনি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নাড়তে থাকেন। স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে শহর।
বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার নেতা-কর্মীরা উচ্চস্বরে স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান। ভোটার তালিকা কাট কার্যক্রম বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) কথিত অনিয়মের অভিযোগে সিইসির পদত্যাগ চাইতে তারা বিপুল মানুষ জড়ো হয়।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিন ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের গন্তব্য ছিল নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর।
মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যারিকেড বসানো ছিল।
পুলিশের বাধার মুখে রাহুল গান্ধী একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে যান। এ সময় তিনি হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে ধরেন। তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও ব্যারিকেডের ওপর উঠেছিলেন।
পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত ব্যানার ছিল।
মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে। তাদের পুলিশ বাসে তোলা হয়। আটক করা হয় তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বেরিয়ে এসে তারা ধর্নায় বসে।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গত সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছে।
তবে আদালত আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি। আদালত বলেছে, শুধু সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

-Recovered-6ac4b8090e9ce.jpg)