গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন অভিজিৎসহ শীর্ষ ককরোচ নেতারা?
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
অভিজিৎসহ ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা গ্রেফতারের চাপে আছেন। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস।
আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে এই গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তার দাবি, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না সিংসহ তাকেও গ্রেফতার করা হতে পারে।
রোববার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ দাস বলেন, সরকার যদি মনে করে গ্রেফতার করে প্রতিবাদ দমন করা যাবে, তবে তারা ভুল করছে। তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। নেতাদের গ্রেফতার করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সৌরভের বক্তব্য, তারা জেল কিংবা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে নেতৃত্বকে গ্রেফতার করে আন্দোলন থামানো যাবে না। ১০ অক্টোবর থেকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, কতজনকে গ্রেফতার করা হবে? তার দাবি, ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসবেন। তবে সরকার সত্যিই দলটির নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে।
ভোটার তালিকা ঘিরে ক্ষোভ ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে তারা।
গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশ অনুমতি না দিলেও সেখানে জমায়েত হয়। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানির মতো পরিচিত মুখের উপস্থিতি আন্দোলনটির প্রতি বাড়তি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
শিক্ষার্থী সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। এরপর দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবর বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে দলটি। তাদের লক্ষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভকে দেশব্যাপী প্রতিবাদে রূপ দেওয়া।
বিজেপি কি চাপে?
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বিজেপি এই তরুণদের আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। গ্রেফতারের অভিযোগ সত্য হলে তা আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না মিললে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।
দলটির সাম্প্রতিক কর্মসূচি থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে থেমে থাকতে চায় না। মুম্বাইয়ের পর দিল্লিতে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা সেই কৌশলেরই অংশ। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কত মানুষ যোগ দেন এবং প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

