‘স্ত্রীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছি, এতেও আমি খুশি’
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি: গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সেরিব্রাল পালসির কারণে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন ৪৩ বছরের এলডি। দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজেই সাহায্য লাগে। কখনও বাবা, কখনও মা বা অন্য কেউ। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজের জীবনের এক ভিন্ন জগৎ খুঁজে পেয়েছেন তিনি—এক নারীর সঙ্গে গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক এক সম্পর্কের মাধ্যমে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর ‘দিস ইজ হাউ উই ডু ইট’ সিরিজে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এলডি ও তার সঙ্গী লেডি অ্যালিস, ৫৩।
এলডির সঙ্গে লেডি অ্যালিসের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে। তাদের সম্পর্ক প্রচলিত প্রেমের সম্পর্ক নয়। বরং লেডি অ্যালিসকে নিজের ‘মালিক’ বা কর্তৃত্বশীল সঙ্গী হিসেবে মেনে নিয়েছেন এলডি।
তার মতে, লেডি অ্যালিসের প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করাই তাদের সম্পর্কের অন্যতম অংশ।
এলডি জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন নিজের শরীর নিয়ে অস্বস্তি ও হতাশায় ভুগেছেন। প্রচলিত যৌন সম্পর্কেও তার শারীরিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে লেডি অ্যালিসের সঙ্গে সম্পর্ক তাকে নিজের শরীর ও পরিচয়কে ভিন্নভাবে দেখতে সাহায্য করেছে।
তাদের বেশিরভাগ সময় কাটে অনলাইনে ভিডিও কলে। সেখানে লেডি অ্যালিসের নির্দেশনা মেনে চলেন এলডি। সম্প্রতি তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতেও ৪০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দেন তিনি। বাবা তাকে সেখানে নিয়ে গেলেও ছেলেকে কার সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যাচ্ছেন, তা জানতেন না।
এলডির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সম্পর্কে তিনি নিজেকে ‘প্রতিবন্ধী’ হিসেবে দেখেন না। বরং স্বাভাবিক ও সুখী একজন মানুষ হিসেবে অনুভব করেন।
অন্যদিকে লেডি অ্যালিস জানান, তিন বছর আগে নিজের যৌনতার একটি নতুন দিক আবিষ্কার করেন তিনি। এরপর অনলাইনে এমন অনেক পুরুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যারা তার কাছে বিভিন্ন ধরনের আধিপত্যমূলক সম্পর্কের অনুরোধ করতেন।
তবে এলডিকে তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে করেন। তার দাবি, এলডি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল এবং তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে তাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
লেডি অ্যালিসের ভাষ্য, এলডির চলাফেরার সীমাবদ্ধতা তার জীবনকে অনেকটাই সংকুচিত করে দিয়েছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কের মাধ্যমে এলডি নিজেকে দেখার নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন। আর সেটিই তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে মনে করেন লেডি অ্যালিস।


