প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের সম্পদ, তারা সমাজের বোঝা নন। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-১৪-এ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল র্যালি, আলোচনা সভা এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও প্রণোদনা প্রদান।
মন্ত্রী বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুসহ সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিই অত্যন্ত মেধাবী। তবে তাদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমাজ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ পরিবর্তন সমাজের সর্বস্তরে আনতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য র্যাম্পের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দৃশ্যমান ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এখনো দৃশ্যমান অনেক কিছু করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। জনগণ সময় দিলে দেশের সব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নগর ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, বড় বড় ভবন ও বিপণিবিতান নির্মাণের সময় র্যাম্প সংযোজন এবং গণপরিবহণে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহণের চালক ও সহকারীদের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সাধারণ নাগরিকদেরও তাদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তুলতে পারে। সমাজের বিভিন্ন সংকট ও বাস্তবতা নিয়ে মানুষ প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করে। এসব বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ১১০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর মধ্যে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করেন। পরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণে দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬-এর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ কবীর।
এ সময় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু, তাদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
