পদকজয়ী সাইদুলের মহৎ উদ্যোগে অভিভূত মন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়েই একটি দেশ এগিয়ে যায়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি থেকে শুরু করে সব ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। তবে, বেসরকারি পর্যায়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে ব্লাইন্ড এডুকেশন এন্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) যে উন্নয়ন মূলক কাজ করছে তা সত্যিই অসাধারণ। বার্ডোর প্রতিষ্ঠাতা এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক এক অনন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। তার আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীসহ ১৭টি জেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করছে।
সাইদুল হক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একজন মানুষ যে কত মেধাবী এবং দক্ষ হয়, তা সাইদুল হককে না দেখলে বুঝা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র তার এই অনন্য অবদানকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি আমাদের দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ এবং ‘একুশে পদক’- পেয়েছেন।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার (সাইদুল হক) হাতে স্বাধীনতা পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছেন। তিনি কেবল মাত্র এই প্রতিষ্ঠানটিই গড়েনটি, বরং নিজের পুরো জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন মানবতার কল্যাণে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরস্থ বার্ডো কার্যালয়ে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বার্ডো কার্যালয়টি ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। পুরো ভবনটি ঘুরে দেখে গর্বিত হয়েছি- দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ প্রতিষ্ঠানটি যা করছে এক কথায় অনন্য অসাধারণ। রাষ্ট্রের দুই দুটি সর্বোচ্চ পদক ও সম্মাননা পাওয়া আলোকিত ও দেশপ্রেমিক সাইদুল হকের হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানে আসতে পারাটা আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, বার্ডোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি করা হয়েছে- আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি সব কয়টি দাবি পূরণে যা যা করণীয় তা করা হবে। রাষ্ট্র এবং সরকার তার এমন মহৎ উদ্দ্যোগের সঙ্গে সব সময় থাকবে। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উজ্বল উদাহরণ। তিনি শুধু বার্ডোর প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি পুরো জাতির অহংকার, আমাদের সবার প্রেরণার আলোকবর্তিকা।
পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেন বার্ডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক। বার্ডোর সভাপতি অ্যাডাভোকেট মোশাররফ হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মোস্তাকুর রহমান খান, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান, সাইটসেভার্স-এর নির্বাহী পরিচালক অমৃতা রেজিনা রোজারিও। বক্তব্য রাখেন— বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহনা আউয়াল, মাসুদ আলম, কবি ও লেখক নাঈমা আক্তর, বার্ডোর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক শের আলী, ইউএনডিপি’র অসীম ডিও। মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন এরশাদ আলী ও ফিরোজা খাতুন।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক বলেন, দৃৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। ঘর-ঘরের বাহির— সর্বত্রই যেন অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমি ব্যক্তিগতভাবেই ওদের কল্যাণ ও উন্নয়নে প্রায় ৩৬ বছর ধরে কাজ করছি। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯১ সালেল ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে দিনরাত কাজ করছি। এ পযর্ন্ত বার্ডো আর্ন্তজাতি উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার সহায়তায় প্রায় ৫০টি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় লক্ষাধিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীসহ ১৭টি জেলা এবং ৩৮টি উপজেলায় জুড়ে বিস্তৃত।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে সাদাছড়ি তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা। বক্তারা বলেন, সমাজে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি তথা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে একজন প্রতিবন্ধী সফল ব্যক্তির এমন উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সংসদে অন্তত একজন নারী এবং একজন পুরুষ প্রতিবন্ধী সংসদ সদস্য করার আহ্বান জানানো হয়।
