বাউবিকে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
Advertisement
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বুধবার গাজীপুরের মূল ক্যাম্পাসে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার, গবেষণার প্রসার এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বাউবিকে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বাউবির প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।
মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা ও সাতটি স্কুলের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। পরে পায়রা অবমুক্তকরণ ও বেলুন ওড়ানোর মাধ্যমে প্রধান অতিথি মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। মূল অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ও বর্তমান কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাউবির উদ্দেশ্য শুধু সনদ প্রদান নয়, বরং শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত মানুষের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। এ জন্য গত ৩৪ বছরের অর্জন, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে তাদের অবদান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তভিত্তিক মূল্যায়ন জরুরি।
শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির মানোন্নয়ন, পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইটিভিইটি)’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বাউবির বিভিন্ন প্রোগ্রামে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী ৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর পর্যায়ের তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থীকে তার কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ৩৪ বছরের পথচলায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম থেকে বর্তমানে ৫৫টি প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় এখন শুধু শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি বা সনদ প্রদানের পরিবর্তে জ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, দক্ষতাভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইটি-সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রাফিক ডিজাইন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কোরিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মুখ্য আলোচক অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো সবার জন্য মানসম্মত ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। গত ৩৪ বছরে বাউবি কর্মজীবী মানুষ, নারী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বাউবির শিক্ষাব্যবস্থা দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিস্তৃতি লাভ করেছে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান বাউবির ৩৪ বছরের অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রথম চ্যান্সেলর বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাউবির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে মানসম্মত, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এজন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও পরিচালনব্যবস্থা আধুনিকায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।
বাউবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টিএম আহমেদ হুসেইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলার জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
এছাড়া আলোচনা অনুষ্ঠানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির উপাচার্য, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য ও ট্রেজারার উপস্থিত ছিলেন।
