প্রেসিডেন্টপুত্রের ওপর নজরদারি, চীনের ‘এজেন্ট’ ধরল যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চীনের হয়ে নিবন্ধন না করে এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন ওয়ানইং ‘হিদার’ ঝাং। একই সঙ্গে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে ও তার পরিবারের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় তাকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই।
রোববার (৪ অক্টোবর) ৩৪ বছর বয়সী ওয়ানইং গ্রেফতার করা হয়। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনের বাসিন্দা। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে তাকে প্রাথমিক শুনানিতে হাজির করা হবে।
মার্কিন ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ঝাং সিয়াটলে গিয়ে তাইওয়ান সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়ের ওপর নজরদারি চালান। চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তিনি ওই ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এফবিআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, নজরদারির লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ছেলে এবং তার পরিবার।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং এবং ‘ইন্ডিভিজুয়াল-১’ নামে পরিচিত আরেক ব্যক্তি লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান। সেখানে তারা ওই পরিবারের বাড়ির বাইরে একটি ভাড়া করা কালো এসইউভিতে অপেক্ষা করছিলেন।
প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে তাদের এই অবস্থান ধরা পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছালে দুজন গাড়ির ভেতর থেকে মোবাইল ফোন বের করে তাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ওই পরিবারের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির ছবি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে। ভবিষ্যতে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনো সংঘাত তৈরি হলে এসব তথ্য ব্যবহার করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে বলেও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, ঝাং একজন সহযোগীর সঙ্গে সমন্বয় করে ওই সফর করেছিলেন এবং নজরদারি এড়াতে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছিলেন। বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার বিষয়টি তিনি মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানাননি, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ফেডারেল অপরাধ।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও ঘটনাটির নিন্দা করে একে ‘ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন’ বা সীমান্ত পেরিয়ে দমন-পীড়নের উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের কথাও বলে আসছে। অন্যদিকে তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

-6ac2d120d3258.jpg)