গুলির ক্ষত সারাতে মধু ব্যবহার করতেন পেহেলগাম হামলার হোতা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ এএম
লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাশ্মীরের দুর্গম জঙ্গলে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গুলির ক্ষত সারাতে খাঁটি মধু ব্যবহার করেছিলেন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা। ২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এই সন্ত্রাসী সম্প্রতি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন।
পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারির কারণে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষত সারানোর চেষ্টা করেন এবং ক্ষতস্থানে মধু ব্যবহার করেন।
গত সেপ্টেম্বরে ইউসমার্গ এলাকায় মুসার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হন। পরে তার মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ফোনে সংরক্ষিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, মুসা তার ক্ষতস্থানে মধু লাগিয়ে চিকিৎসার চেষ্টা করছেন।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব ছবি পাকিস্তানে অবস্থানরত লস্করের ঊর্ধ্বতন নিয়ন্ত্রকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ছবিগুলো পাওয়ার পর মুসার জন্য খাঁটি মধুর ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন তার হ্যান্ডলাররা।
ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, ‘অপারেশন শেরুয়ালি’ চলাকালে রাজৌরির দোরিমাল-গম্ভীর মুঘলা এলাকায় গোলাগুলির এক পর্যায়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন মুসা। এরপর তিনি ও ইয়াসির পুঞ্চ-রাজৌরির দুর্গম বনাঞ্চলে আশ্রয় নেন। তাদের খুঁজে বের করতে ভারতীয় বাহিনী টানা ৪৫ দিনেরও বেশি সময় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
পরবর্তীতে বুদগামের ইউসমার্গ এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে নিহত হন কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান অপারেশনাল কমান্ডার মুসা। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, তিনি একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি)-এর সদস্য ছিলেন। তাদের মতে, এ কারণেই তিনি দীর্ঘ সময় দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন।

