Logo
Logo
×

Advertisement

ভারত

কাশ্মীরের ‘লাল সোনা’ অস্তিত্ব সংকটে

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

কাশ্মীরের ‘লাল সোনা’ অস্তিত্ব সংকটে

জাফরানের কন্দ দেখাচ্ছেন এক কাশ্মীরি কৃষক। ছবি: বিবিসি

Advertisement

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান। গাঢ় লাল রঙের এই মসলাকে বলা হয় ‘লাল সোনা’। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভেজাল পণ্যের দাপটে ভারতের কাশ্মীরে জাফরান চাষ এখন সংকটের মুখে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষকরা। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী জাফরান চাষ একসময় হারিয়েই যেতে পারে।

শ্রীনগরের পুরোনো শহরের একটি খোলা বাজারে কাশ্মীরি জাফরান কিনতে গিয়ে দ্বিধায় পড়তে হয় এক ক্রেতাকে। দোকানদার প্রথমে দোকানের তাকের নিচ থেকে কাপড়ে মোড়ানো একটি ছোট স্টিলের পাত্র বের করেন। তাতে ছিল অল্প কয়েকটি গাঢ় লাল জাফরানের আঁশ।

দোকানদার জানান, এগুলো পাম্পোরের জাফরান। ভারতের প্রধান জাফরান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি এই পাম্পোর। তিনি বলেন, ‘এ বছর খুব সামান্য জাফরান উৎপাদন হয়েছে।’

এরপর পাশের একটি কাচের পাত্রে রাখা উজ্জ্বল লাল রঙের জাফরান দেখিয়ে তিনি বলেন, এগুলো ইরানি জাফরান। এখন অনেক দোকানেই এগুলো কাশ্মীরি জাফরান নামে বিক্রি করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্রেতার পক্ষে দুই ধরনের জাফরানের পার্থক্য বোঝা সম্ভব হয় না।

২০২৫ সালের অক্টোবরে কাশ্মীর সফরের সময় এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন বিবিসির প্রতিবেদক মীর সীনিন। তার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, উৎপাদন কমে যাওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাজারে আমদানি করা জাফরানের ভেজাল ও ভুল পরিচয়ে বিক্রির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই মসলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


লাল সোনার ঐতিহ্য

শ্রীনগর থেকে পাম্পোরের দিকে এগোলে ধীরে ধীরে শহরের বহুতল ভবন ও দোকানপাটের জায়গা নেয় উঁচু ও শুষ্ক মাটির বিস্তীর্ণ মালভূমি। শরৎকালে এই মালভূমিতেই ফোটে জাফরানের বেগুনি ফুল।

সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে জাফরান সংগ্রহের মৌসুম। ভোর হওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যরা ঝুড়ি নিয়ে মাঠে হাজির হন। হাতে হাতে ফুল সংগ্রহ করেন তারা। গ্রামের রাস্তার পাশে অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা।

জাফরান আসে ক্রোকাস স্যাটিভাস নামের একটি উদ্ভিদের ফুল থেকে। প্রতিটি বেগুনি ফুলের ভেতরে থাকে তিনটি গাঢ় লাল গর্ভমুণ্ড বা আঁশ। এগুলো হাত দিয়ে সংগ্রহ করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় জাফরান। প্রায় ৪ হাজার ফুল থেকে পাওয়া যায় মাত্র ২৮ গ্রাম জাফরান। বছরে মাত্র দুই থেকে চার সপ্তাহ এই গাছে ফুল ফোটে। এসব কারণেই জাফরান বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলাগুলোর একটি।

বর্তমানে বুনো অবস্থায় জাফরান পাওয়া যায় না। তবে এর চাষের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। বর্তমান ইরান, গ্রিস ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রাচীন চাষের সন্ধান পাওয়া যায়। পারস্যের প্রভাব ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের মাধ্যমে কয়েক শতাব্দী আগে জাফরান কাশ্মীরে পৌঁছায়।

গাঢ় লাল রং, মোটা আঁশ ও তীব্র সুগন্ধের জন্য কাশ্মীরি জাফরানের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, এতে ক্রোসিন নামের এক ধরনের ক্যারোটিনয়েড যৌগের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। এই উপাদানই জাফরানের গাঢ় রঙের নেপথ্যে। কাশ্মীরি জাফরানের দাম সাধারণত ইরানি জাফরানের চেয়ে বেশি। প্রতি গ্রাম জাফরানের দাম ৪ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।

পাম্পোরের বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জাফরান চাষের ওপর নির্ভরশীল। ফসল তোলার মৌসুমকে ঘিরেই তাদের সংসারের খরচ, বিয়ে ও অন্যান্য পারিবারিক আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে ফুল থেকে লাল আঁশ আলাদা করেন। পাশে চলে লবণ দেওয়া চায়ের আয়োজন।


উৎপাদনে বড় ধস

গত এক দশকে কাশ্মীরি জাফরানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীর ও পার্শ্ববর্তী জম্মু অঞ্চলে ২০১০-১১ অর্থবছরে জাফরান উৎপাদন ছিল ৮ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৬ টনে।

গবেষকদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বৃষ্টিপাত জাফরান গাছে ফুল ফোটা এবং মাটির নিচে থাকা কন্দের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বৃষ্টির অভাব হলে ফলন দ্রুত কমে যায়।

কাশ্মীরভিত্তিক স্বাধীন জলবায়ু গবেষক ও অধিকারকর্মী রাবিয়া খান বলেন, জাফরান চাষের জন্য ঋতুভিত্তিক আবহাওয়ার একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রয়োজন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘শরৎকালে বৃষ্টিহীন সময় দীর্ঘ হচ্ছে এবং এমন পরিস্থিতি আগের তুলনায় বেশি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে তুষারপাতের ধরনও বদলে গেছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটির আর্দ্রতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

পশ্চিম হিমালয়ে তুষারপাত কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলের পানিব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে।

পাম্পোরের কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়ার এই পরিবর্তন তারা সরাসরি অনুভব করছেন। আগের মতো শীত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। বরফ গলে যে পানির প্রবাহ গ্রামগুলোতে পৌঁছাত, বছরের শুরুর দিকেই তা কমে যাচ্ছে।

জাফরানচাষি আবদুল রশিদ ওয়ানি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বৃষ্টিপাতের ধরন অনেক বদলে গেছে। এখন আমাদের সেচপাম্পের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়।’

২০১০ সালে জাফরান চাষের সংকট মোকাবিলায় ভারতের সরকার ‘ন্যাশনাল স্যাফরন মিশন’ চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, জাফরানের কন্দ পুনরুজ্জীবিত করা এবং উৎপাদন বাড়ানো। এ কর্মসূচির আওতায় পাম্পোরের জাফরান উৎপাদন এলাকায় গভীর নলকূপ, স্প্রিংকলার সেচব্যবস্থা ও কৃষকদের বৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিছু কৃষক বলছেন, কয়েকটি গ্রামে সেচের সুযোগ বেড়েছে। তবে অন্যদের অভিযোগ, পানির পাইপলাইন নষ্ট, সরবরাহ অনিয়মিত এবং ফুল ফোটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেরামতের কাজেও দেরি হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতের কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রণালয় বিবিসির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।


কৃষিজমিতে নগরায়ণের চাপ

জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি জাফরান চাষের জমিও ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সড়ক সম্প্রসারণ, আবাসন প্রকল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কারণে একসময় জাফরান চাষ হওয়া অনেক জমি হারিয়ে যাচ্ছে।

কোনিবাল গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হাবিব খান বলেন, ‘একসময় প্রতিটি পরিবার জাফরানের ওপর নির্ভর করত। এখন অনেক তরুণ এই পেশায় আর ভবিষ্যৎ দেখছে না।’

কৃষকদের জন্য আরেকটি সমস্যা হয়ে উঠেছে সজারু। পাম্পোরের দুসু গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আসিফ তার জমির কয়েকটি জায়গা দেখিয়ে বলেন, সজারু রাতে এসে মাটি খুঁড়ে জাফরানের কন্দ নষ্ট করে দেয়। অনেক সময় ফুল না ফোটার কারণ বোঝা যায় না, অথচ মাটির নিচে থাকা কন্দ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

আসিফের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সজারুর আক্রমণ বেড়েছে। বিশেষ করে বসতবাড়ি ও ঝোপঝাড়ের কাছের জমিগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা কোথাও কোথাও অস্থায়ী বেড়া দিচ্ছেন, আবার রাতে পাহারাও দিচ্ছেন।

এ ছাড়া কাছাকাছি আবর্জনার ভাগাড়ে আকৃষ্ট হয়ে আসা ইঁদুরও জাফরানের কন্দ নষ্ট করছে। দিল্লিভিত্তিক সাময়িকী ডাউন টু আর্থ এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কাশ্মীরি জাফরানের নামে ভেজাল

বিশ্বের মোট জাফরান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে ইরান থেকে। দেশটির কৃষকরাও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও পানিসংকটসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাবের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবেও কাশ্মীরি ও ইরানি জাফরানের বৈশ্বিক সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তবে ইরানি জাফরান কাশ্মীরের কৃষকদের জন্য আরেকটি সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দিল্লির মসলা বাজারের এক ব্যবসায়ী বিবিসিকে জানান, আমদানি করা ইরানি জাফরান অনেক সময় বিপুল পরিমাণে ভারতের বাজারে প্রবেশ করে। পরে সেগুলো নতুন মোড়কে ভরে কাশ্মীরি জাফরান নামে বিক্রি করা হয়।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘ক্রেতারা কাশ্মীরি জাফরান চান, কারণ এই নামের আলাদা বাজারমূল্য রয়েছে। মোড়কজাত করার পর অধিকাংশ ক্রেতাই পার্থক্য বুঝতে পারেন না।’

এ ছাড়া জাফরানের সঙ্গে জাফরান সদৃশ অন্য ফুলের আঁশ বা হলুদ মেশানো এবং ক্ষতিকর রং ব্যবহার করে ভেজাল তৈরির ঘটনাও রয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার খাদ্যবিজ্ঞানী শাজিয়া মালিক মসলার বিশুদ্ধতা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ভেজাল ভোক্তা ও কৃষক উভয়েরই ক্ষতি করছে।

তার ভাষায়, ‘আমদানি করা জাফরান কাশ্মীরি জাফরানের সঙ্গে মেশানো হলে কিংবা ভুল পরিচয়ে বিক্রি করা হলে ক্রেতাদের আস্থা কমে যায়। একই সঙ্গে কৃষকদের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

পাম্পোরের কয়েকজন কৃষকের আশঙ্কা, বাজারে কাশ্মীরি জাফরানের নামে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকায় স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে। বাস্তবে উৎপাদন কমলেও বাজারে কাশ্মীরি জাফরানের উপস্থিতি দৃশ্যমান থাকছে।

ভেজাল রোধে সনদ প্রদান ও ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পণ্যের উৎস শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিবিসিকে এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব উদ্যোগের ফলে নজরদারি বেড়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম প্রয়োগে এখনো ধারাবাহিকতা নেই।


ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা

শ্রীনগরের কাছে সরকারি উদ্যানতত্ত্ব গবেষক নিয়াজ আহমদ দার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জাফরান চাষ নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশেষ কক্ষে আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে জাফরান গাছের ফুল ফোটানোর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য সুস্থ কন্দ সংরক্ষণ করা এবং নিয়মিত ফুল ফোটা নিশ্চিত করা।’

প্রাথমিক গবেষণায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জাফরান চাষের ক্ষেত্রে ফুল ফোটার ধারাবাহিকতা এবং ক্রোসিনের মাত্রা ধরে রাখার ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

জাফরানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গবেষকরা ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনা, কন্দ সংরক্ষণ এবং মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণের উন্নত পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছেন। তবে অনেকে মনে করেন, অবশিষ্ট জাফরান চাষের জমি রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পাম্পোরের কৃষকদের আশঙ্কা, সাময়িকভাবে ফসল কমে যাওয়ার চেয়েও বড় বিপদ হলো নির্মাণকাজের কারণে জাফরানের মাঠগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া। একবার এসব জমিতে ভবন তৈরি হলে সেখানে আবার চাষাবাদ শুরু করা প্রায় অসম্ভব।

২০২৫ সালের নভেম্বরে আবার দুসু গ্রামে গিয়ে আসিফের পরিবারের সঙ্গে ভোরে জাফরান সংগ্রহে অংশ নেন বিবিসির প্রতিবেদক। দিনের আলো ফুটতেই বোঝা যায়, এবার ফসলের পরিমাণ কতটা কম। পরিবারের ঝুড়িগুলোও আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম ভরেছে।

পরে আসিফের বাড়িতে তার স্ত্রী জেবা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ফুল থেকে প্রতিটি লাল আঁশ আলাদা করছিলেন। পাশে লবণ দেওয়া চায়ের কাপ থেকে উঠছিল ধোঁয়া। আসিফ শুকানোর জন্য আঁশগুলো একটি ট্রেতে ছড়িয়ে দেন। ঘরজুড়ে ছড়িয়ে ছিল তাজা জাফরানের মাটির মতো মৃদু সুগন্ধ।

আসিফ বলেন, ‘শত শত বছর ধরে জাফরান চাষ এখানকার পরিবারগুলোর পরিচয়ের অংশ। মানুষ শুধু আয় নিয়ে চিন্তিত নয়, এই জমির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা জীবনযাত্রা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ও তাদের রয়েছে।’ সূত্র: বিবিসি

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ৬ সদস্যকে হত্যার পর শহরে ছড়িয়ে দিলেন লাশের টুকরো!

স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ৬ সদস্যকে হত্যার পর শহরে ছড়িয়ে দিলেন লাশের টুকরো!

স্কুটারচালককে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ৭

স্কুটারচালককে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ৭

কুমিরের কারণেই শেষ রক্ষা হলো নারীর!

কুমিরের কারণেই শেষ রক্ষা হলো নারীর!

ফের বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির

ফের বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির

দিল্লিতে ফের ভবন ধস, নিহত ২

দিল্লিতে ফের ভবন ধস, নিহত ২

ভারতীয় ভিসা আবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শর্ত, বাধ্যতামূলক যেসব তথ্য

ভারতীয় ভিসা আবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শর্ত, বাধ্যতামূলক যেসব তথ্য

আরও পড়ুন

কাশ্মীরের ‘লাল সোনা’ অস্তিত্ব সংকটে

কাশ্মীরের ‘লাল সোনা’ অস্তিত্ব সংকটে

ভিপি হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস ভাঙলেন ভারতের এই মুসলিম তরুণী

ভিপি হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস ভাঙলেন ভারতের এই মুসলিম তরুণী

স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ৬ সদস্যকে হত্যার পর শহরে ছড়িয়ে দিলেন লাশের টুকরো!

স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির ৬ সদস্যকে হত্যার পর শহরে ছড়িয়ে দিলেন লাশের টুকরো!

স্কুটারচালককে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ৭

স্কুটারচালককে সাহায্য করতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত ৭

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম