ইসরাইলে কে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন, যা জানালেন প্রেসিডেন্ট
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্টের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ থাকায় শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট, কেউই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি।
এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার দায়িত্ব পড়েছে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের ওপর। দেশটির প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর থাকে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন হারজগ। এতে পার্লামেন্টের ১২০ জন নির্বাচিত আইনপ্রণেতার মধ্যে ৬৭ জন আইজেনকোটের পক্ষে এবং ৪৬ জন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানান।
আলোচনা শেষে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে হারজগ বলেন, ‘আলোচনার ফলাফল আপাতদৃষ্টিতে স্পষ্ট মনে হলেও জোটগুলোর মধ্যে এবং জোটের অভ্যন্তরেও পারস্পরিক ভেটো রয়েছে। ফলে কে সরকার গঠনের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পাবেন, তা বলা কঠিন।’
তিনি জানান, আগামী রোববার সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রার্থী মনোনীত করবেন। এর আগে শুক্রবার ও শনিবার ইসরাইলের সাপ্তাহিক ছুটির সময়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করবেন তিনি।
সরকার গঠনে সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময়
প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
নতুন জোট সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। কোনো প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্বে থাকবে।
১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ২৭টি আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। তবে তার বৃহত্তর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩টিতে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী চারটি ইহুদিপ্রধান মধ্য-বাম থেকে ডানপন্থি দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে দুপক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আইজেনকোটের জোট পিছিয়ে পড়ে। এ ছাড়া ইসরাইলের আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।
বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর জন্য আরও একটি ধাক্কা আসে। অতি-গোঁড়া ইহুদিদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি বড় দলের একটি এবং দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় কোনো প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেওয়ার সুপারিশ করেনি।
নেতানিয়াহুর মতো আইজেনকোটও এখন পর্যন্ত ইসরাইলের দুটি আরব নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে দল দুটি আইজেনকোটকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে আইনপ্রণেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

