Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

রোহিঙ্গাদের পর কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

রোহিঙ্গাদের পর কাশ্মীরে কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান

Advertisement

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর এবার কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের মতে, প্রথম ধাপে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। 

কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি নিউজ উর্দু জানিয়েছে, মে মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনকে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা প্রায় ৬০০ অবৈধ অভিবাসী কয়েক বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মুতে বসবাস করছেন।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিমরা গত কয়েক দশক ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে জম্মুতে বসবাস করছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের অনেকেই ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে দুটি পৃথক দলে ভাগ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর সাম্প্রতিক দমননীতিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নির্বাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের আইনি শরণার্থীর মর্যাদা দেয় না, কারণ ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়।

একই নীতিমালার অধীনে ২০১৭ সালে অনুপ্রবেশ করেছেন—এমন অভিযোগে রোহিঙ্গাদেরও আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিজেপি এবং এর সমর্থকরা যুক্তি দেন, অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষত জম্মু অঞ্চলে। এতে স্থানীয় জনগণের জীবিকার সুযোগও প্রভাবিত হচ্ছে বলে তাদের দাবি। প্রশাসন আরও আশঙ্কা করছে, পরিচয়পত্রহীন লোকজনকে চরমপন্থা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা এসব যুক্তির সঙ্গে একমত নন।

সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হারুন রেশির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হচ্ছে ‘নন-রিফাউলমেন্ট’। এর অধীনে কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্তভাবে পাচ্ছেন না।

তার মতে, যদিও ভারত এই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, তবুও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বেশ কয়েকবার সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিদেশিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কাশ্মীর সংঘাত নিয়ে সিনেমা বানানো নির্মাতাকে আটক করল যুক্তরাষ্ট্র

কাশ্মীর সংঘাত নিয়ে সিনেমা বানানো নির্মাতাকে আটক করল যুক্তরাষ্ট্র

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

কাশ্মীরে ১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের বিষয়ে যা বলছে ভারত

কাশ্মীরে ১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের বিষয়ে যা বলছে ভারত

গুলির ক্ষত সারাতে মধু ব্যবহার করতেন পেহেলগাম হামলার হোতা

গুলির ক্ষত সারাতে মধু ব্যবহার করতেন পেহেলগাম হামলার হোতা

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

জম্মু-কাশ্মীরে সহকর্মীর গুলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর ৪ সদস্য নিহত

অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন ক‌বির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে

আরও পড়ুন

জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ল

একসঙ্গে জন্মদিন পালন করলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দুই ব্যক্তি

একসঙ্গে জন্মদিন পালন করলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক দুই ব্যক্তি

বাংলাদেশ-নেপালের মতো অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

বাংলাদেশ-নেপালের মতো অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে

সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভ দিল্লিতে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম