রানওয়ে সম্প্রসারণে বাঁকড়া মসজিদ, আদালতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নামাজ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মসজিদ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি জমিতে থাকা ধর্মীয় স্থাপনা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বাঁকড়া মসজিদ মামলায় আদালতে এমন দাবি করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকার।
বুধবার মামলার শুনানিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সৌমিন্দ্রনাথ মুখার্জি বলেন, বিতর্কিত জমিটি সরকারি জমি। নামাজের জন্য নির্দিষ্ট একটি মসজিদ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। অন্য যেকোনো স্থানেও নামাজ আদায় করা সম্ভব। দেশের নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তার মতো বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
আদালতকে জানানো হয়, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য ওই জমি ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি অধিগ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। পুনর্বাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আরও জানান, ওই জমিতে থাকা মসজিদের কারণে বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
গত ১৩ মে বেসামরিক বিমান চলাচল দপ্তর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৩ মে মসজিদ কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ৮ জুলাইয়ের বৈঠকে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিমানবন্দরের একটি নির্দিষ্ট প্রবেশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীও আদালতে বলেন, সংবিধানে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্থাপনার জন্য কোনো বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়নি। তাঁর দাবি, বৃহত্তর জনস্বার্থ বা জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে জমি অধিগ্রহণে কোনো ধর্মীয় কাঠামো বাধা হতে পারে না।
আদালতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকাজে সমস্যা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, প্রায় ১৩৬ বছর ধরে ওই মসজিদে নামাজ ও ধর্মীয় আচার পালন হয়ে আসছে। এত বছর ধরে সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়েছে, কোনো মসজিদ ভেঙে অন্য ধর্মীয় স্থানে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে না। পাশাপাশি জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকায় সব ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের দাবি একইভাবে প্রযোজ্য নয় বলেও জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ শুনানির পর বুধবার আদালত কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেননি। আগামী ৯ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
