দিল্লি যেন দুর্গ, নামানো হচ্ছে ২৩ হাজার সেনা
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণকে (এসআইআর) কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আগামী ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীতে ২২১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২৩ হাজার সদস্য থাকবেন বলে জানা গেছে।
জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের দিল্লিতে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশও বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করছে।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। তিনি আগে থেকেই জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। নতুন করে তার বাসভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশের সমর্থন পেয়েছে। অভিনেতা প্রকাশ রাজ, ইউটিউবার ও অধিকারকর্মী ধ্রুব রাঠিসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে আয়োজিত সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রকাশ রাজ ও ধ্রুব রাঠিও বক্তব্য দেন।
ধ্রুব রাঠি ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তিনি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে জীবিত ব্যক্তিদের মৃত বা অনুপস্থিত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি ‘ভোট চোর’ বললে সমবেত জনতা ‘গদি ছোড়’ স্লোগান দেন।
ধ্রুব রাঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। প্রকাশ রাজও বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণের কারণে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
বেঙ্গালুরুর সমাবেশ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হয়।
এদিকে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও টানা কয়েক দিন ধরে দিল্লিতে বিক্ষোভ করছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে।
বৃহস্পতিবারও দিল্লিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রাজঘাটে জমায়েত ঠেকাতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করে দিল্লি পুলিশ।
তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ আটকাল পুলিশ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট। মঙ্গলবার সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল, বুধবার যন্তর মন্তরের দিকে অভিযান এবং বৃহস্পতিবার রাজঘাট অভিমুখে যাত্রা করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজের পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা গান্ধীসহ বিরোধী সাংসদরা বাসে করে রাজঘাটের দিকে রওনা হন। রাজঘাটের কাছে পৌঁছানোর আগেই ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে সেখানে কয়েকজন বিরোধী নেতা ও কর্মীকে আটক করা হয়।
আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীর সমর্থনের কথাও সামনে এসেছে। লেখিকা অরুন্ধতী রায় সম্প্রতি আন্দোলনটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া শিক্ষাবিদ জয়তী ঘোষ, তনিকা সরকার, নিবেদিতা মেনন, অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ, চলচ্চিত্র নির্মাতা সঞ্জয় কাক, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
লাদাখের পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন।
বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে ভোটার তালিকা, ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছে।
আগামী ১০ অক্টোবরের ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
