মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার, নাগরিকদের দেখা ঠেকাতে পারবে না নিউজিল্যান্ড
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরাসরি সম্প্রচার দেখা থেকে নিউজিল্যান্ডের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বিরত রাখার ক্ষমতা নেই দেশটির জাতীয় সেন্সর কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সেন্সর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানান। খবর রয়টার্সের।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারকে প্রতিবাদ জানাতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে এই বক্তব্য এলো।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসান ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, টেক্সাসে ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার এমন সরাসরি সম্প্রচার হবে নজিরবিহীন।
বিশেষ করে তরুণদের ক্ষতিকর ইন্টারনেট বিষয়বস্তু থেকে সুরক্ষার প্রচেষ্টা যখন জোরদার হচ্ছে, তখন এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারের সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।
সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানানো দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিউজিল্যান্ড। দেশটির একটি স্বাধীন সরকারি সংস্থা ‘ক্লাসিফিকেশন অফিস’ বলেছে, সরাসরি সম্প্রচারের সময় এ ধরনের বিষয়বস্তু দেখা বা অ্যাক্সেস সীমিত করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের সেন্সর কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান চলাকালে সেটিকে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে যেমন নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। আর কোনো লাইভস্ট্রিম ইভেন্ট দেখা বা অ্যাক্সেস বন্ধ করার এখতিয়ারও আমাদের বা অন্য কোনো সংস্থার নেই।
নিউজিল্যান্ডের সেন্সর কর্তৃপক্ষের প্রধান ক্যারোলিন ফ্লোরা বলেন, দেশটির আইনে কোনো বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করার মানদণ্ড বেশ কঠোর। এ ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, কোনো বিষয়বস্তু যতই পীড়াদায়ক হোক না কেন, তা সব সময় বেআইনি না-ও হতে পারে। কোনো বিষয়বস্তু বা ঘটনা বাস্তবে ঘটার আগেই সেটির সম্ভাব্য শ্রেণিবিভাগ নিয়ে কোনো আগাম মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসার পর নেটসেফের মতো অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলো তথ্য ও পরামর্শ দিতে পারে।
মন্তব্যের অনুরোধে নিউজিল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।
নিউজিল্যান্ডের জন্য এই খবরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০১৯ সালে দেশটিতে এক বন্দুকধারী দুটি মসজিদে ৫১ জনকে হত্যা করেছিলেন এবং ফেসবুকে সেই অপরাধের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন।
এরপর থেকে অনলাইনে সহিংস বিষয়বস্তু মোকাবিলার ক্ষেত্রে দেশটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ওই হামলার কয়েক মাস পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ বিষয়ে একটি বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করেছিলেন।
বিশ্বজুড়ে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেসব দেশে এমনটি ঘটতে দেখা গেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরান ও তালেবান-শাসিত আফগানিস্তান।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে আহ্বান জানিয়েছে যেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, যাতে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
মানবাধিকার সংগঠনটির ক্যাম্পেইন ম্যানেজার কিনজোম ধংডু বলেন, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসমক্ষে সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাবটি মানুষের মর্যাদার প্রতি এক চরম অবমাননা। রাষ্ট্রের অনুমোদনে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ডকে জনসমক্ষে প্রদর্শনের বিষয়বস্তুতে পরিণত করা মৃত্যুদণ্ডের নিষ্ঠুরতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

