সৌদিতে হুথিদের হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবে হুথিদের অব্যাহত হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাশিয়ার নতুন করে ডিজেল রপ্তানি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় বাজারে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা থামেনি।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। খবর আলজাজিরার।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দরপতন কাটিয়ে ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ২৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ১৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে এ দর ছিল, যা গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১১ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯২ ডলার ৯৬ সেন্টে পৌঁছেছে।
সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলা তেলের বাজারে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এ ছাড়া সোমবারের হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার নতুন করে ডিজেল রপ্তানি এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, চলতি মাসে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানিতে যে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, নতুন করে হামলা বাড়ায় তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

