হোম অফিসের কথা বলে সিঙ্গাপুরে, ধরা পড়তেই বিপাকে কর্মী
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২২ পিএম
ল্যাপটপের সূত্র ধরেই কর্মীর অবস্থান শনাক্ত করে ‘এক্সই’। ছবিটি এআই দিয়ে নির্মিত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাড়িতে বসে কাজ করার কথা বলে ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এক মুদ্রা ব্যবসায়ী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কর্মস্থলের ল্যাপটপের সূত্র ধরেই অবস্থান শনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্লস গ্রাহাম সিডনিভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে পরিচিত। গত বছরের ১৭ নভেম্বর তার সিডনি থেকে বাড়িতে বসে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু ওই সময় তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর ২ ডিসেম্বর তাকে চাকরিচ্যুত করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে নিয়োগকর্তার কাছে নিজের অবস্থান গোপন করার ঘটনা এটাই প্রথম ছিল না গ্রাহামের। এর আগে তিনি ম্যানেজারকে জানিয়েছিলেন, বাড়ির টয়লেট মেরামত করতে প্লাম্বার আসবেন বলে তাকে বাসা থেকে কাজ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তখন তিনি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বালিতে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক বছরের জন্য সিঙ্গাপুরে বসে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন গ্রাহাম। তবে তার কর্মস্থল সিডনিতে হওয়ায় এবং সিঙ্গাপুরে ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স না থাকায় সেই আবেদন নাকচ করে দেয় ‘এক্সই’।
এরপর চোখের সমস্যার কথা জানিয়ে কয়েক সপ্তাহ বাড়ি থেকে কাজ করেন গ্রাহাম। পরে বার্ষিক ছুটিতে যান তিনি। ছুটি শেষে তার কাজে ফেরার কথা থাকলেও তিনি ফিরে এসেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ম্যানেজার আইটি বিভাগকে তদন্ত করতে বলেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, সিডনির বাড়িতে নয়, গ্রাহাম অবস্থান করছিলেন সিঙ্গাপুরে। এ বিষয়ে ম্যানেজার একটি ইমেইলে লেখেন, ‘আমাদের কর্মীটির আজ ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিন। তাই তোমার এফবিআই-সুলভ তদন্ত দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতে দেরি হওয়ার ব্যাখ্যায় গ্রাহাম জানান, ছুটিতে থাকাকালে তার সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এ কারণে তাদের দেশে ফেরার যাত্রা পিছিয়ে দিতে হয়।
গ্রাহামের দাবি, বিষয়টি ম্যানেজারকে জানানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু জমে থাকা অসংখ্য অপঠিত ইমেইল, একের পর এক ফোনকল এবং গুরুত্বপূর্ণ এক গ্রাহকের অভিযোগ সামলাতে গিয়ে তিনি পরিস্থিতি জানাতে পারেননি।
তবে তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ‘এক্সই’-এর দাবি, গ্রাহামের দেওয়া চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে তার সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে নিজের অবস্থান কেন গোপন করেছিলেন, তারও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
এ ছাড়া অসুস্থতা কিংবা ঘরের কাজের কারণে দেরি হওয়ার কথা বলে একাধিকবার দেরিতে কাজে আসার অভিযোগও তোলে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, এর আগেই কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অফিসে উপস্থিত থাকার নিয়ম চালু করেছিল ‘এক্সই’।
গত ৭ অক্টোবর গ্রাহামের অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রায় দেয় অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন।
সংস্থাটির কমিশনার ম্যাথেসন বলেন, গ্রাহাম ইচ্ছাকৃতভাবে সিঙ্গাপুরে নিজের অবস্থান গোপন করেছিলেন। এতে স্পষ্ট হয়, বিদেশে বসে কাজ করতে নিয়োগকর্তার অনুমতি প্রয়োজন—বিষয়টি তিনি জানতেন।
কমিশনারের মতে, গ্রাহামের এ আচরণ অসততার শামিল। তাই তাকে চাকরিচ্যুত করার যথেষ্ট কারণ ছিল প্রতিষ্ঠানটির হাতে।
তবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে কমিশন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বার্তায় ‘কৌশল’ নির্ধারণ এবং গ্রাহামকে বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য ‘কিছুটা আশা দেখানোর’ মতো মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে তার বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করার আগেই প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কি না, সেই উদ্বেগ তৈরি হয়।
তারপরও গ্রাহামকে চাকরিতে পুনর্বহালের পক্ষে নয় কমিশন। কমিশনারের মতে, প্রতিষ্ঠানটি ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও গ্রাহামের চাকরি টিকে থাকার সম্ভাবনা কম ছিল। তাই বরখাস্তের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়নি।
তবে চাকরিচ্যুতির পরিবর্তে নোটিশের মেয়াদ বাবদ চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন গ্রাহাম।


