নেতানিয়াহুকে হতাশ করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের দিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানানোর পরও সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ভ্যান্স।
সাংবাদিক মার্ক হালপেরিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আমেরিকার কিংবা আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী সমর্থনটি প্রেসিডেন্টের।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমেরিকান প্রার্থীদের সমর্থন করি। আর এখন আমার মনোযোগ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে। তাই আমি ইসরাইলের নির্বাচনে জড়াচ্ছি না।’
তবে এর আগে গত বসন্তে হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ভ্যান্স। পরে অরবানের দল সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের ইহুদি সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ইহুদি আমেরিকানদের প্রতি ভ্যান্সের অঙ্গীকার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের, বিশেষ করে মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক দলের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ইহুদি ও ইসরাইলবিরোধী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। একই সময়ে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধও সামনে আসছে।
সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে ভ্যান্সের সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত বছর কার্লসন তার পডকাস্টে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত নিক ফুয়েন্তেসের সাক্ষাৎকার নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে ভ্যান্সের সমালোচনা
ইসরাইল সরকারের কয়েকজন সদস্যের সমালোচনা করেছেন জেডি ভ্যান্স। বিশেষ করে ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রাথমিক সমঝোতার প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন তিনি।
ভ্যান্স একবার বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল।’
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেললে তারা ‘সবকিছু হারানোর ঝুঁকিতে’ পড়তে পারেন।
নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরাইলকে সুরক্ষা দেওয়া প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থে কেনা।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নন। আর ইসরাইলে যারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে।’
গত জুলাইয়ে ভ্যান্স অভিযোগ করেছিলেন, ইসরাইল সরকারের কিছু অংশ ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে দিতে মার্কিন জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
জো রোগানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে জানি, তাদের ব্যবস্থার কিছু লোক আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করছে এবং যুদ্ধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার জন্য জনমত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।’
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে উত্তপ্ত ফোনালাপ
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছিল জেডি ভ্যান্সের। যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত আশাবাদী মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর আত্মবিশ্বাসের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ভ্যান্স। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এটি সহজ হবে এবং সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি। ভাইস প্রেসিডেন্ট এসব বক্তব্যের বিষয়ে বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছিলেন।’
ফোনালাপের পর এক মার্কিন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া ভ্যান্সকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে ইসরাইল। দীর্ঘদিন ধরে অনির্দিষ্টকালের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে আসা ভ্যান্স বর্তমানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় পৌঁছাতে ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করতে বেশি আগ্রহী—এমন খবর ছড়ানোর পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা রয়েছে। তার দাবি, ভ্যান্স চুক্তির বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি আগ্রহী হতে পারেন—এমন ধারণা থেকেই এসব খবর ছড়ানো হয়েছে।
অ্যাক্সিওসকে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি জেডি-র বিরুদ্ধে ইসরাইলের একটি অভিযান।’ তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
