ভারতে ‘গরুর মাংস খাই’ বলে ট্রলের শিকার, প্রাণ দিল দশম শ্রেণির ছাত্র
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি-এআই সম্পাদিত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাত্তুরে গরুর মাংস খাওয়ার কথা জানানোয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হওয়ার অভিযোগে আত্মহত্যা করেছে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। ১৬ বছর বয়সি ওই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে অপমানের পাশাপাশি পরেও তাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কোয়েম্বাত্তুরের পীলামেডু এলাকার শ্রী কে কে নাইডু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল আলিকান। তফসিলি জাতিভুক্ত পরিবারের একমাত্র সন্তান সে। তার বাবা অশোক কুমার একটি ধোপাখানায় কাজ করেন। মা কৌশল্যা দেবী অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ ভাতা পাওয়ার নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করছিলেন শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমার। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা গরুর মাংস খায়, তা জানতে চান। আলিকান হাত তুলে তাদের পরিবারে গরুর মাংস খাওয়া হয় বলে জানায়।
অভিযোগ, এরপরই শিক্ষক তাকে নানা কথা বলে অপদস্থ করেন। দুই সহপাঠীও তাকে উপহাস করতে যোগ দেয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়েও এই মানসিক হেনস্থা চলতে থাকে বলে পরিবারের অভিযোগ।
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শ্রেণিশিক্ষকের আচরণ নিয়ে প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল আলিকান। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার সময় আলিকানের বাবা-মা দুজনেই কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফিরে তারা ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
পরে ঘটনার কথা জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও পুলিশের কাছে তাদের বক্তব্য জানায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার ও শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে দুই শিক্ষকের বক্তব্য বা তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আলিকানের বাবা-মা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একজন শিক্ষার্থীর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপহাস এবং সেই উপহাসের অভিযোগকে ঘিরে এই মৃত্যু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বৈষম্য প্রতিরোধ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
