জামিয়া মিলিয়ায় শিক্ষার্থী-নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাশ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা যেখানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছিলেন, সেখানে স্থাপন করা তাঁবু সরাতে শুরু করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। ওই তাঁবুর নিচে অনশনরত শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভি অভিযোগ করেছেন, গতকাল ক্যাম্পাসে কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্যের সফর শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করেছে। তার দাবি, রাজনৈতিক বক্তব্যের হাতিয়ার হিসেবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ) পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন। ক্যাম্পাসে সহিংসতার কারণে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ২০০৬ সালে ছাত্র সংসদটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল।
গত ২১ অক্টোবর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে লেখা এক চিঠিতে সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। চিঠিতে তিনি মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার সাংবিধানিক অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিংডোহ কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করেন।
কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্যকে নিয়ে অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাহতাব আলম রিজভির অভিযোগ, কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ গতকাল দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিঘ্নিত হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভি।
এদিকে নিরাপত্তাকর্মীদের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি। তিনি বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু জোর করে সরানোর চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ঐক্যের সামনে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
প্রতাপগড়ি আরও বলেন, ‘জামিয়ার স্বৈরাচারী প্রশাসনকে বুঝতে হবে, এবার শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। শিক্ষার্থীদের সমর্থনে প্রয়োজন হলে আমি আবারও জামিয়ায় ফিরব।’
১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত ১২ অক্টোবর থেকে আন্দোলন চলছে। আজ কমিউনিস্টপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) অভিযোগ করে, কোনো উসকানি ছাড়াই অনশনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জামিয়া প্রশাসন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনার আরেকটি কারণ দেয়ালে ভারতবিরোধী স্লোগান লেখা পাওয়া। স্লোগানগুলো জম্মু ও কাশ্মীর-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে বিজেপি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবিন বাসিলের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইন্ধনে ওই বিতর্কিত স্লোগানগুলো লেখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই স্লোগানগুলোর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।’
বাসিল আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলন প্রত্যাহার করাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাটকীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করছে। আজ অধ্যাপক ও নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের আন্দোলনের তাঁবু খুলে সরানোর চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের সফর ক্যাম্পাসের পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে কিনা, এমন প্রশ্নে বাসিল বলেন, ‘তাদের সফরে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না। তারা আমাদের সংসদ সদস্য, লোকসভার সদস্য। তাদের সফরে পরিবেশ নষ্ট হবে কেন?’
সূত্র: এনডিটিভি
