|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সুদের হার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এমনকি আগামীতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কেও ইঙ্গিত পেতে চাইছেন তারা। যদিও চলতি সপ্তাহের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিন বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ০.৫২ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪.৪০ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে, প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের সূচক ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে ওঠে, যা মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদায় চাপ সৃষ্টি করে।
অ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, উচ্চ তেলের দামের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এতে ফেড কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখবে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফার হার ও শক্তিশালী ডলারের চাপেও স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী রয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৬ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
ফেডের নীতিনির্ধারকেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে সুদের হার বাড়ানো হবে না। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের ধারণা, এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়তে পারে—এমন সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ ধরে নিয়ে লেনদেন করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।
বিশ্বের অন্যান্য প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিও এ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। ফেডের পর বৈঠকে বসবে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফা বা সুদ দেয় না—এমন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে উচ্চ সুদের প্রত্যাশা সাধারণত স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি করে।
বিনিয়োগকারীরা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের এই সূচকটি ফেডের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ।
রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, ফেডের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত কিংবা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পিসিই মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হলে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে দাম ৩ হাজার ৯০০ ডলারের দিকেও যেতে পারে।
এদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩.২৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০১.৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৯.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
