ইসরাইলে নির্বাচন
নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে কি আরব দলগুলো?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে আরব নাগরিক ও দলগুলোর প্রভাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে তাদের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত জেরুজালেম পোস্ট-এর এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের রাতে রা'আম দলের নেতা মানসুর আব্বাসকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য সহযোগিতার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে আব্বাস প্রথমে সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, আগে সরকার গঠনের সংখ্যাগত সমীকরণ স্পষ্ট হতে হবে, এরপর আলোচনায় বসতে হবে।
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। নির্বাচনের পর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যায়। তবে চ্যানেলগুলোর পূর্বাভাসে পার্থক্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের আগে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আরব দলগুলোর ভোটের গুরুত্ব
ইসরাইলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতপার্থক্য, দাবিদাওয়া এবং সরকারে অংশগ্রহণের কৌশল তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত সরকারে রা'আম অংশ নিয়েছিল। এর মাধ্যমে ইসরাইলের ডানপন্থী রাজনীতির একজন নেতার নেতৃত্বাধীন সরকার টিকিয়ে রাখতে দলটি ভূমিকা রেখেছিল। এবারের নির্বাচনেও আরব দলগুলো সরকার গঠনের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের আরব নাগরিকদের ভোটও অন্যান্য নাগরিকের ভোটের মতোই পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে। ফলে কোনো সরকার তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে পারে, আবার সেই সমর্থন প্রত্যাহার করা হলে সরকার পতনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
‘বর্ণবাদ’ বিতর্ক ও আরব দলগুলোর অবস্থান
প্রতিবেদনে ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বর্ণবৈষম্য নিয়ে চলমান বিতর্কও তুলে ধরা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলসহ অধিকৃত ভূখণ্ডে বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে ইসরাইলের আরব নাগরিকদের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ যেমন বৈষম্যসংক্রান্ত সব অভিযোগের অবসান ঘটায় না, তেমনি তাদের দল গঠন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখার বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যায় না।
আরব দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য
রা'আমের নেতা মানসুর আব্বাস সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে, হাদাশ, তায়াল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী।
জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়ন ও তদারকিসহ একটি কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ ও বসতি স্থাপনসংক্রান্ত বাজেটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলটির নির্দিষ্ট আপত্তি রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থানে মিল থাকলেও সরকার গঠনের পর নীতিগত প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে।
রা'আমের রাজনৈতিক অবস্থানেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দলটি ইয়েশ আতিদ পার্টির সাবেক আইনপ্রণেতা ইয়োয়াভ সেগালোভিচকে দলে যুক্ত করেছে। তিনি এর আগে ইসরাইলের গুরুতর অপরাধ তদন্তকারী জাতীয় ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইসলামপন্থী-রক্ষণশীল শিকড় থাকা একটি দলে তার যোগদান রাজনৈতিক সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা এবং দলীয় পরিচয় নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
আইজেনকটের সঙ্গে জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করা, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে চলা, নাগরিকদের দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইজেনকট পরে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটে না যাওয়ার অবস্থানও জানিয়েছেন। ফলে তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও আরব দলগুলোর সমর্থন কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে রা'আমকে নিয়ে সরকার গঠনে নেতৃত্ব দেওয়া নাফতালি বেনেট এবার একই ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তিনি রা'আমের সদস্যদের জাতিগত পরিচয়ের পরিবর্তে দলটির অ-জায়নবাদী রাজনৈতিক অবস্থানকে আপত্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান অবশ্য রা'আমকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
