তেলের দামে আসছে নতুন মোড়, বাড়বে নাকি কমবে?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
বিশ্ববাজারে সবশেষ কমেছে স্বর্ণের দাম। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তেলের দাম কমার আশা জাগালেও অঞ্চলটিতে নতুন করে হামলা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাজারকে চাপে রাখছে, উদ্বেগ বেড়েছে সরবরাহ নিয়েও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় ১টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ৪৭ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ১৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৬৫ সেন্টে নেমে আসে। এর আগের দিন অবশ্য ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল।
তেলের বাজারে এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইকে চিঠি পাঠিয়েছেন, যাতে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সেটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে আলোচনা সফল হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ তেলের সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার আশঙ্কাও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
শান্তি আলোচনা এগোলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কিন্তু সংঘাত বাড়লে বা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দাম আবারও বাড়তে পারে।
তাই সামনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে, নাকি কমবে—তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

-6ae2ea2595c83.jpg)